পেঁয়াজের পর এবার রসুনের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে এবং মধ্যপ্রদেশ-গুজরাতের মতো রাজ্যের উপর থেকে আমদানিনির্ভরতা কমাতে উদ্যোগী হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলার স্বনির্ভরতা বাড়াতে হুগলি জেলার উদ্যান পালন দফতর কৃষকদের নিয়ে নাসিক থেকে আনা নতুন জাতের রসুনের চাষ শুরু করিয়েছে।
🧅 কেন এই উদ্যোগ?
বাংলার অভ্যন্তরীণ বাজারে রসুনের দামের ওঠানামা দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ট্রান্সপোর্ট খরচের কারণে প্রায়শই রসুনের দাম বেড়ে যায়। রাজ্যে যা রসুন চাষ হয়, তার পাঁচ গুণ বর্তমানে ভিনরাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়।
হুগলি জেলা উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ জানান:
“পশ্চিমবঙ্গ ও আমাদের জেলাতে যথেষ্টই রসুনের ঘাটতি রয়েছে। ভিনরাজ্যের নির্ভরতা কমাতেই রসুন চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই রসুন চাষে দ্বিগুন ফলন আনতে পারি আমরা।”
পেঁয়াজ চাষের জন্য হুগলির মাটি খুবই উর্বর। পেঁয়াজ চাষের সঙ্গে রসুনের সাদৃশ্য থাকায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখানকার উপযুক্ত উর্বর মাটি ও আবহাওয়া রসুন চাষের জন্য আদর্শ।
📈 দ্বিগুণ ফলন দেবে ‘যমুনা সফেদ থ্রি’
হুগলির বলাগড়, তারকেশ্বর ও গোঘাটে দেশি রসুন চাষ হলেও তার ফলন কম। এই ঘাটতি মেটাতেই উদ্যোগী হয়েছে সরকার।
নতুন জাত: উদ্যান পালন দফতর তামিলনাড়ুর নাসিকে গবেষণালব্ধ উন্নতমানের রসুনের জাত— (G-282) ‘যমুনা সফেদ থ্রি’-র বীজ আমদানি করেছে।
ফলনের পার্থক্য: যেখানে দেশীয় জাতের ‘গঙ্গাজুলি’-র ফলন প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ৯ কুইন্টাল, সেখানে এই উন্নত রসুন ফলন দেবে ২০ থেকে ২২ কুইন্টাল।
প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে: শুভদীপ নাথ জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম হুগলি জেলায় এই বিপুল আকারে চাষ হচ্ছে নাসিকের এই বিশেষ জাতের রসুনের।
💰 কৃষকদের বাড়তি লাভ ও ভর্তুকি
উদ্যান পালন বিভাগ জানাচ্ছে, উন্নত রসুন চাষ সফল হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়েই লাভবান হবে।
সংরক্ষণ ও দাম: পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই নানা পদক্ষেপ করেছে, সেখানেই রসুনও সংরক্ষণ করা যাবে। তিন মাস মজুত রাখলেই কৃষকরা আলুর চেয়েও বেশি, প্রায় আড়াইশো টাকা দাম পাবেন।
সরকারি সহায়তা: চাষিদেরকে সার্টিফাইড বীজ দেওয়া হচ্ছে এবং তা কিনে চাষ করলে রাজ্য সরকার কিছুটা ভর্তুকিও দিচ্ছে।
বলাগড়ের জিরাটে ইতিমধ্যে ২২ জন চাষিকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। চাষিরাও এই নতুন প্রজাতি চাষে উৎসাহী হয়েছেন এবং জৈব সারের ব্যবহারে জোর দেওয়ার কথা বলছেন। এই ধাপে ধাপে চাষ বাড়ানোর মাধ্যমেই রাজ্যকে রসুনে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।