‘পুলিশ অপরাধীদের সঙ্গে চা খায়!’ রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিওর গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক দিলীপ

রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে ইকো পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার তিনি পুলিশের পেশাগত নিরপেক্ষতা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করছে এবং নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাঁর কথায়, “পুলিশ অনেক সময় নির্দিষ্ট অপরাধীদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়, অথচ তাদের সঙ্গেই সন্ধ্যাবেলা বসে চা খায়। তারপর বলে যে তারা অভিযুক্তকে খুঁজে পাচ্ছে না।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে ওসআই, আইসি থেকে শুরু করে বিডিও-এসডিও পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।

জনগণের ওপর প্রভাব: দিলীপ ঘোষ বলেন, “পুলিশের কিছু আধিকারিকের মিথ্যা বলার অভ্যাস তৈরি হয়েছে এবং তারা চোর-ডাকাতদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করছে। এদের ব্যবহার করা হয়েছে খারাপ কাজে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।” মেদিনীপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দ্রুত কমে আসছে।

কড়া হুঁশিয়ারি: প্রাক্তন বিডিওর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও পুলিশের সামগ্রিক কর্মপদ্ধতির কড়া সমালোচনা করেন তিনি। পুলিশের উদ্দেশে তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি, “এই অভ্যাস যদি পুলিশ না বদলায়, তবে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষই তাদের পাল্টে দেবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বাড়াতে বিজেপি এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। এই ঘটনার পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy