অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের জন্য এক অনন্য উপহার। ওড়িশার রাউরকেলা থেকে শুরু হওয়া ২৮৬ কেজি ওজনের বিশালাকার ‘সুবর্ণ মহাধনুষ’ বা কোদণ্ড ধনু এখন খবরের শিরোনামে। শ্রী জগন্নাথ ধাম পুরীতে এই মহাধনুকটিকে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়েছে। আগামী ২২শে জানুয়ারি এই পবিত্র ধনু অযোধ্যায় পৌঁছাবে এবং রামলালার চরণে নিবেদন করা হবে।
ঐতিহাসিক যাত্রা ও শিল্পকর্ম: রাউরকেলার ‘সনাতন জাগরণ মঞ্চ’-এর উদ্যোগে নির্মিত এই ধনুকটি আধুনিক কারুশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার হয়ে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পৌঁছাবে। এই মহাধনুকটি তৈরিতে ১ কেজি সোনা, ২.৫ কেজি রূপা এবং তামা, দস্তা ও লোহার মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে। পিতল ও তামার কাঠামোর ওপর সোনার প্রলেপ এর মহিমা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুরীতে জমকালো সংবর্ধনা: ওড়িশার ৩০টি জেলা পরিক্রমা করে এই স্বর্ণধনু যখন পুরীর গ্র্যান্ড রোডে পৌঁছায়, তখন সেখানে এক আবেগঘন আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারে বিশেষ পূজার্চনা ও সংকল্প যাত্রার পর রথটি অযোধ্যার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভক্তদের দর্শনের জন্য এটি পুরীর উত্তরপার্শ্ব মঠে রাখা হয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান।
গন্তব্য যখন অযোধ্যা: বিশেষভাবে সজ্জিত একটি রথে করে এই বিশাল ধনুকটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২২শে জানুয়ারি অযোধ্যায় পৌঁছানোর পর একটি বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এটি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রামলালার চরণ স্পর্শ করানোর পর, এই ঐতিহাসিক কোদণ্ড ধনুটিকে মন্দির সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। এই যাত্রাকে ওড়িশা ও উত্তর ভারতের মধ্যে এক অনন্য আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।