ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন চীন তাঁর অত্যন্ত ‘বন্ধু’, ঠিক তখনই উল্টো সুর বেজিং-এর গলায়। ইরানকে গোপনে অস্ত্র সাহায্য দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে বিশ্বের দুই মহাশক্তির মধ্যে। আমেরিকার তোলা ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে এবার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল চীন। সাফ জানাল, “পিঠ পিছে কোনো ষড়যন্ত্র করলে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”
১. জল্পনার মূলে কী?
সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝে চীন গোপনে তেহরানকে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সাহায্য করছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল— তিনি চীনকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন এই শর্তে যে তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র দেবে না। কিন্তু সেই ‘ডিল’ ঘিরেই এখন কালো মেঘ জমছে।
২. চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
আমেরিকার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে চীনের বিদেশ মন্ত্রক। বেজিং-এর স্পষ্ট বার্তা— “চীন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং কার সঙ্গে বাণিজ্যিক বা কৌশলগত সম্পর্ক রাখবে, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। মিথ্যে অভিযোগ তুলে চীনের সম্মানহানি করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না।”
৩. “দেখিয়ে দেব”— বেনজির হুমকি
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক কড়া বার্তায় বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি চীনের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘পিঠে ছুরি মারার’ মতো পদক্ষেপ নেয়, তবে বেজিং চুপ করে বসে থাকবে না। ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে চীন যে নিজের স্বার্থ রক্ষায় কতটা আগ্রাসী, এই ‘দেখিয়ে দেব’ মন্তব্যটি তারই প্রমাণ।
৪. মাঝপথে কি তবে ট্রাম্পের ‘শান্তি বৈঠক’?
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। যেখানে তিনি শি জিনপিং-এর কাছ থেকে একটি ‘বড় আলিঙ্গন’ বা ‘হাগ’-এর আশা করেছিলেন, সেখানে এই ধরণের কূটনৈতিক সংঘাত সেই বৈঠকের সাফল্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





