দীর্ঘ দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই ঘরে ঝুলছিল তালা। বাইরে জ্বলজ্বল করছিল নেমপ্লেট। অবশেষে ২০২২ সাল থেকে বন্ধ থাকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সেই বহুচর্চিত কক্ষটি আজ খোলা হলো। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর থেকেই বিধানসভায় তাঁর এই অফিস ঘরটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
কেন বন্ধ ছিল এই কক্ষ? ২০২২ সালের জুলাই মাসে ইডি-র হাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বদলে গিয়েছিল বিধানসভার সমীকরণ। তার আগে পর্যন্ত পরিষদীয় মন্ত্রী হিসেবে এই বিশেষ ঘরটি ব্যবহার করতেন তিনি। গ্রেফতারির পর মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় পদ খোয়ালেও, তাঁর ঘরটি আইনি এবং প্রশাসনিক কারণে তালাবন্ধই রাখা হয়েছিল। ঘরের বাইরে দীর্ঘদিন তাঁর নামের ফলকটিও শোভা পাচ্ছিল, যা নিয়ে মাঝে মাঝেই গুঞ্জন উঠত বিধানসভার অলিন্দে।
অবশেষে খোলা হলো তালা বিধানসভা সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে ঘরটি বন্ধ থাকায় তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। অবশেষে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ সেই ঘরের তালা খোলা হয়। উপস্থিত আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঘরটি পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম এখন সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
এখন কার দখলে যাবে এই ঘর? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ঘরটি বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থানে অবস্থিত। নতুন করে ঘরটি খোলার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে— এখন এই ঘরটি কাকে বরাদ্দ করা হবে? বর্তমান পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এখন এই ঘরটি ব্যবহার করবেন, নাকি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর জন্য এটি রাখা হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
স্মৃতির অন্তরালে দাপুটে মন্ত্রী একসময় যে ঘরে বিধায়ক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভিড় লেগে থাকত, আজ সেই ঘরটি খোলার সময় সেখানে কেবল ধুলো আর নিস্তব্ধতাই ছিল সঙ্গী। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন জেলবন্দি, আর তাঁর সেই একসময়ের ‘পাওয়ার সেন্টার’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুটি আজ থেকে নতুন করে ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছে।
বাংলার রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি যেন ফুটে উঠল বিধানসভার এই সাধারণ একটি ঘর খোলার মধ্য দিয়ে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য বিধানসভার এই অন্দরমহলের খবরটি আজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





