বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের একবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত পুরাতন মালদা পুরসভা। এবার ইস্যু পানীয় জলের সংযোগ। আইন না মেনে অবৈধভাবে জলের সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে কলমিস্ত্রি ও ১৩ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) করলেন খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুরসভার অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
কী নিয়ে বিতর্ক? কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আমরুত ২’ (AMRUT 2) প্রকল্পে পুরাতন মালদা পুর এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য প্রায় ৯.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। অভিযোগ, পুরসভার অনুমতি ছাড়াই ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বাড়িতে বেআইনিভাবে পাইপ লাইনের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক নাগরিক লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদারকে ৯৫০০ টাকা দিয়েছেন, যার কোনো রসিদ তাঁকে দেওয়া হয়নি।
কাউন্সিলরের পাল্টা যুক্তি ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বজিৎবাবুর দাবি, “মানুষ জলকষ্টে ভুগছিলেন, তাই আমি নিজের দায়িত্বে তাঁদের সংযোগ নিতে বলেছিলাম। কলমিস্ত্রি মিস্ত্রির খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। আমি কোনো টাকা নিইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
তৃণমূলের অন্দরে ফাটল? পুরাতন মালদার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষকে অপসারণের পর থেকেই বিভূতিভূষণ ঘোষের সঙ্গে দলের একাংশের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এবার খোদ কাউন্সিলরের এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের পুলিশি পদক্ষেপে সেই ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ই প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে, যারা এর নেপথ্যে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশি তৎপরতা ইতিমধ্যেই মালদা থানার পুলিশ অভিযুক্ত কলমিস্ত্রি স্বপন দাসকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে জেরা করে এই চক্রের মাথায় কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত ১৩ জন নাগরিকের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ।
ভোটের ঠিক মুখে পানীয় জলের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে দলের এই কোন্দল ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





