পাতে পড়া ইলিশ কি তবে আফ্রিকার? টন টন মাছ আসছে বাংলায়, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’র মন্দার বোসের সেই বিখ্যাত ডায়লগ মনে আছে? আফ্রিকার মানচিত্র আর ভূগোল নিয়ে লালমোহনবাবুকে তাচ্ছিল্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু এখনকার বাস্তব বলছে, সেই আফ্রিকার মাছই হয়তো অজান্তে রসনা তৃপ্তি করছে বাঙালির। উগান্ডা বা মরিতানিয়ার মতো দেশ থেকে ইলিশ, চিংড়ি ও তেলাপিয়া দেদার আসছে এ রাজ্যে। শুক্রবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এক প্রশ্নের জবাবে এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ।

পরিসংখ্যান যা বলছে: মাছের মেলা

কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি মাছের আমদানি এখন আকাশছোঁয়া:

  • মরিতানিয়ার ইলিশ: ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে মরিতানিয়া থেকে ৪,৮৬,৪৭৫ কেজি ইলিশ এসেছে বাংলায়।

  • উগান্ডার চিংড়ি: ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে উগান্ডা থেকে ১৮,৩০৬ কেজি চিংড়ি আমদানি করা হয়েছে।

  • সামগ্রিক চিত্র: শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই প্রায় ৯ লক্ষ কেজি মাছ বিদেশ থেকে এ রাজ্যে এসেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা।

স্বাদে কি মিলবে গঙ্গা বা পদ্মার ছোঁয়া?

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন এক বড় পার্থক্যের কথা। আমাদের প্রিয় ইলিশের বিজ্ঞানসম্মত নাম হলো ‘তেনুয়ালোসা ইলিশা’ (Tenualosa ilisha)। অন্যদিকে, আফ্রিকান ইলিশ হলো ‘ইলিশা আফ্রিকানা’ (Ilisha africana)। দুটির গঠন এক হলেও স্বাদে ও গন্ধে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই তথ্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কারণেই বাংলা আজ মাছের জন্য পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে মার খাচ্ছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। অন্যদিকে, রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী পালটা দাবি করেছেন, “ব্যবসায়ীরা লাভের খাতিরে বাইরে থেকে মাছ আনতেই পারেন, কিন্তু বাংলায় মাছের উৎপাদন যথেষ্ট এবং এখান থেকেও মাছ ভিন রাজ্যে রপ্তানি হয়।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy