গত বছর ২২ এপ্রিল, ২০২৫—পহেলগাঁওয়ের পবিত্র মাটিতে নেমে এসেছিল অন্ধকারের কালো ছায়া। পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিদের গুলিতে ঝরে গিয়েছিল ২৫ জন নিরীহ পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দার প্রাণ। সেই মর্মান্তিক ঘটনার আজ এক বছর পূর্তি। নিহতদের স্মরণের দিনে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সেনাবাহিনী প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ভারতীয় সেনার হুঙ্কার ও ‘অপারেশন সিঁদুর’:
বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি গ্রাফিক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: “যখন মানবতার সীমা অতিক্রম করা হয়, তখন প্রতিক্রিয়া হয় সুনির্দিষ্ট। কিছু সীমা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। ভারত ভোলেনি।” উল্লেখ্য, এই হামলার পাল্টা জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ওপার সীমান্তের লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিগুলি। সেনাবাহিনীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পুনরায় কোনো দুঃসাহস দেখালে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
নিরাপত্তার চাদরে উপত্যকা:
সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সমগ্র কাশ্মীর জুড়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। আইজিপি ভিকে বিরদি সিআরপিএফ, বিএসএফ ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ তৃণভূমি, যা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত, গত বছরের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পরিষেবা প্রদানকারী যেমন ঘোড়াওয়ালা, হকার ও বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘কিউআর কোড’ ভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পর্যটকরা নিজেদের ফোনে এই কোড স্ক্যান করে ওই ব্যক্তির পুলিশ ভেরিফিকেশন ও পেশাদার তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন:
হামলার পর সাময়িকভাবে কাশ্মীরের প্রায় ৫০টি পর্যটন স্পট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে পর্যটন শিল্পে বড়সড় ধস নামে। তবে বর্তমানে কড়া নিরাপত্তা নিরীক্ষার পর সেই স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। বৈসরণের তৃণভূমি আজ আবারও পর্যটকদের কলতানে মুখর। শোক আর লড়াইয়ের এক বছর পার করে কাশ্মীর আজ আরও বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ।





