পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এবার এক নতুন সমীকরণ ও তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া। এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক দল আম আদমি পার্টি, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং শিরোমণি আকালি দল (এসএডি) একযোগে সুর চড়িয়েছে। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে ভোট প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও বিরোধী দলগুলির অভিযোগ সমাধানে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে পাঞ্জাবের হেভিওয়েট নেতারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
পাঞ্জাবে যাতে কোনোভাবেই বাংলা বা বিহারের মতো রাজনৈতিক জটিলতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে আজ এক জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা আনন্দিতা মিত্র। এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের গভীর আশঙ্কা ও আপত্তির কথা নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরে। পাল্টা আশ্বাসে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলির মনের সমস্ত সংশয় ও আশঙ্কার সম্ভাব্য সবরকম সদুত্তর দেওয়া হবে।
ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘাতের আবহে সরব আকালি দল ও কংগ্রেস
বৈঠক শেষে শিরোমণি আকালি দলের মুখপাত্র তথা প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী দলজিৎ চিমা সাফ জানান, “এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের মূল আপত্তি নেই। কিন্তু ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা এবং পুরনো নাম বাদ দেওয়ার যে পদ্ধতি, তা নিয়ে আমাদের মনে একাধিক বড় প্রশ্ন রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গের মতো পাঞ্জাবেও যদি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ করব।”
একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস সাংসদ অমর সিংয়ের গলাতেও। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় কী ঘটেছিল, তা সবার চোখের সামনে রয়েছে। আমরা চাই না পাঞ্জাবে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হোক।” বিরোধীদের এই চাপের মুখে অবশ্য নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, ভোটার তালিকা থেকে যে সমস্ত নাম বাদ যাবে বা যুক্ত হবে, তার একটি সম্পূর্ণ পৃথক তালিকা তৈরি করে সব দলকে দেওয়া হবে, যাতে কোনো বিরোধ তৈরি না হয়।
তৃণমূল স্তরের লড়াই বনাম বিজেপির পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির পাঞ্জাব রাজ্য সভাপতি আমান অরোরা সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের বিগত কিছু ভূমিকার দিকে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পুরো সরকারি প্রশাসন রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে ও যোগ করতে সফল হয়েছিল। আমাদের আপত্তি ঠিক এই জায়গাতেই। পাঞ্জাবে আমরা এই ধরণের কোনো অস্বচ্ছতা বরদাস্ত করব না।”
যদিও বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পাঞ্জাব বিজেপির লিগ্যাল সেলের আহ্বায়ক এন.কে. ভার্মা দাবি করেছেন, এসআইআর-এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা ও নিয়ম রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সেই নিয়ম মেনেই চলছে। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা, তাই আপ বা কংগ্রেসের এই আশঙ্কা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আপাতত পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা আনন্দিতা মিত্র জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলির উত্থাপিত সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তিনি খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সব পক্ষকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হবে। তবে নির্বাচনের আগে এই ‘SIR’ বিতর্ক যে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক তাপমাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





