বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (Special Summary Revision – SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি মনে করছে, এই রাজ্যেও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে।
বিজেপির প্রশিক্ষণ ও রণনীতি:
বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য দলের নেতা ও কর্মীদের দুই ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে:
বিএলও ১ (BLO 1): এটি বিধানসভা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। প্রতিটি বিধানসভায় তিনজন করে ‘বিএলও ওয়ান’ থাকবেন। তাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ইলেকট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO) বা জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
বিএলও ২ (BLO 2): এটি বুথভিত্তিক প্রশিক্ষণ। যারা ‘বিএলও ওয়ান’ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাঁরাই ‘বিএলও টু’-দের প্রশিক্ষণ দেবেন।
বিজেপি প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার নেতা-কর্মীকে ‘বিএলও ওয়ান’ হিসেবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ আগামী ২০শে আগস্ট পর্যন্ত চলবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নতুন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে সাহায্য করার জন্যই এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, নাগরিকদের প্রয়োজনীয় ১১টি নথি (যা বিহারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ করেছে) সংগ্রহে সহায়তা করা এবং সঠিক তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনে সহযোগিতা করা। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিহারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের জন্যও একই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তৃণমূলের বিরোধিতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:
অন্যদিকে, বিজেপির বিরোধী শিবির তৃণমূল কংগ্রেস এই SIR প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূল এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে। যদিও ভোট বয়কটের বিষয়ে এখনও তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সংসদে তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এবং বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন যে SIR না হলে পশ্চিমবঙ্গ ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হয়ে যাবে।
কেন এই সংশোধন জরুরি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় থাকা কোনো অনিয়ম বা ভুলভ্রান্তি দূর করা সম্ভব হবে। এটি নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করবে। তবে, এই প্রক্রিয়ার সময় নাগরিকদের কী কী তথ্য প্রয়োজন হবে এবং কীভাবে তাঁদের সহায়তা করা হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বর্তমানে, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে, এটুকু স্পষ্ট যে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া যদি শুরু হয়, তবে তা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে তুলবে।