পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা! ট্রাম্পের ‘শাসন পরিবর্তন’-এর পাল্টা জবাব দিল ইরান, পরমাণু চুক্তি কি বিশ বাঁও জলে?

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য যখন দুই সপ্তাহের এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, ঠিক তখনই ইরান ও আমেরিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার উপক্রম হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে ইরান বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment) নিয়ে তারা কোনও আপস করবে না।

ইরানের কড়া অবস্থান: ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মহম্মদ এসলামি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:

  • অধিকার নিয়ে আপস নয়: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং এটি নিয়ে কোনও দর কষাকষি হবে না।

  • বিদেশের চাপ অগ্রাহ্য: আমেরিকা বা ইজরায়েলের মতো ‘শত্রু’দের চাপে এই কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।

  • ট্রাম্পের দাবিকে আক্রমণ: পশ্চিমী দেশগুলি ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা কমানোর যে দাবি তুলেছে, তাকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এসলামি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ও ‘শাসন পরিবর্তন’: অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে: ১. ইরানে একটি “ফলপ্রসূ শাসন পরিবর্তন” (Regime Change) হয়েছে। ২. ইরান নাকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। ৩. আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির ১৫টি পয়েন্টের মধ্যে অনেকগুলোতেই ইতিমধ্যেই সম্মতি মিলেছে। ৪. বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে শুল্ক ও কড়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

স্পেস ফোর্সের নজরদারি: ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, স্পেস ফোর্সের অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ইরানের যে সব গোপন পরমাণু কেন্দ্র মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত, সেগুলো বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ‘খুঁড়ে বের করার’ প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

সংকটে যুদ্ধবিরতি: ইসলামাবাদে যখন স্থায়ী শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই বাকযুদ্ধ প্রস্তাবিত চুক্তিকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই অনড় অবস্থান কি ফের ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের সূচনা করবে? নজর এখন সেদিকেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy