রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কথা মাথায় রেখে পূর্ব রেল সর্বদা যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এবার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধির মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল শিয়ালদহ ডিভিশন। কল্যাণী স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি চালু হলো একটি অত্যাধুনিক “উন্নত পে অ্যান্ড ইউজ শৌচাগার কমপ্লেক্স”। এটি পূর্ব রেলের ‘স্বচ্ছতা’ অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি বড় সাফল্য।
প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এবং ৮০ বর্গ মিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি প্রতিদিন ৫০,০০০-এরও বেশি যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আধুনিক স্থাপত্যরীতির অনুসরণে তৈরি এই কাঠামোর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম লুভারের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব এই নকশা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কমপ্লেক্সের ভেতর একটি সতেজ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পটি সফল হয়েছে জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্ব এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের ডি.আর.এম. (DRM) রাজীব সাক্সেনার তত্ত্বাবধানে। শৌচাগারটিতে মোট ২৩টি হেভি-ডিউটি ফিক্সচার রয়েছে। পুরুষদের জন্য ৬টি ইউরিনাল, ১টি ইন্ডিয়ান এবং ৩টি ওয়েস্টার্ন ওয়াটার ক্লোজেটসহ ওয়াশ বেসিনের ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলাদের জন্য আলাদা সেকশনে ২টি ইউরিনাল, ৪টি ওয়াটার ক্লোজেট এবং আয়নাযুক্ত ৩টি ওয়াশ বেসিন রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হয়েছে সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তির কথা মাথায় রেখে। বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গজনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ সুগম শৌচাগার, যেখানে গ্র্যাব বারসহ ওয়েস্টার্ন ওয়াটার ক্লোজেট ও ওয়াশ বেসিন রয়েছে। এছাড়া, দৃষ্টিহীন যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে পুরো এলাকা ট্যাকটাইল ফ্লোরিং এবং অ্যান্টি-স্কিড প্রিমিয়াম টাইলসে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে একটি ডেডিকেটেড কেয়ারটেকার রুম। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই বজবজেও এমন আরও একটি কমপ্লেক্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে পূর্ব রেলের।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, এই ধরনের স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো যাত্রীদের যাত্রাপথে এক নিখুঁত পরিচ্ছন্নতার অভিজ্ঞতা দেবে। শিয়ালদহ ডিভিশন যাত্রীদের স্বাস্থ্য এবং মর্যাদার বিষয়ে ‘জিরো কমপ্রোমাইজ’ নীতিতে অটল।





