সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে জুতো, ডিম এবং জনরোষের শিকার হওয়ার পর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘খুনের চেষ্টা’ হিসেবে দাগিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও দাবি অভিষেকের ওপর হামলার পর সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার ওপর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, “গণনার দিন থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা কেন কমিয়ে দেওয়া হলো? দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতার প্রাণ সংশয় হওয়ার পরেও পুলিশ কোথায় ছিল? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাব দিন।”
একই সুর শোনা গেছে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গলায়। তিনি রাজ্য প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “পুলিশ কী করছিল? কেন অভিষেককে ঘিরে এই তাণ্ডব এতক্ষণ চলতে দেওয়া হলো? নিরাপত্তা তুলে নেওয়া এবং হামলার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক।” এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। তিনি একে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার একটি বড় ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
বিজেপির অবস্থান: ‘আমাদের দলের সঙ্গে কোনো যোগ নেই’ তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “হিংসার রাজনীতি কোনো সুস্থ সমাজে কাম্য নয়। আমরা এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করি না। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দল দূর-দূরান্ত পর্যন্ত যুক্ত নয়।”
পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে শমীক আরও বলেন, “বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে উত্তরের সভায় গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। আমাদের দলের কর্মীদের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে, তার তুলনায় তৃণমূল এখন অনেক বেশি অক্ষত রয়েছে।” বিজেপির দাবি, গত কয়েক বছরে তৃণমূলের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভ সঞ্চিত হয়েছে, এদিন সোনারপুরের রাস্তায় তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।





