ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা আগেই আচমকা দিল্লি রওনা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দিল্লি যাওয়ার কথা থাকলেও, পরিকল্পনা বদলে শনিবার একাই তড়িঘড়ি বিমানে উঠলেন তিনি। তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে ভাঙনের আশঙ্কা, আর তাতেই রাজনীতির অন্দরমহলে তুঙ্গে জল্পনা।
কেন এই তাড়াহুড়ো? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার পরিষদীয় দলের মতোই বর্তমানে তৃণমূলের সংসদীয় দল বড় ধরনের সংকটের মুখে। বিধায়কদের পর একাধিক সাংসদও এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দলের ভাঙন আটকাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আগাম দিল্লি সফর বলে মনে করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, সাংসদদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে বৈঠক করে ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করবেন তিনি।
ইন্ডিয়া জোটের সংকট: উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু— দুই রাজ্যেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমকে স্ট্যালিনের দল। একদিকে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের ডিএমকে ছাড়ার ইঙ্গিত, অন্যদিকে তৃণমূলের নিজস্ব ঘরোয়া কোন্দল— সব মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের জন্য সোমবারের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
দিল্লির এই বৈঠকে ওমর আবদুল্লা, হেমন্ত সোরেন, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব এবং উদ্ধব ঠাকরের মতো হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর কি আদৌ তৃণমূলের ভাঙন ঠেকাতে পারবে? নাকি দলের অন্দরে বিদ্রোহ আরও বাড়বে? সেই উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষায়।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অভিষেকের রবিবার ও সোমবারের সূচি নিয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর এই দিল্লিযাত্রা যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





