পরাজয় মানতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী! ভবানীপুরে হারের পর মমতার পরবর্তী চাল কী? তুঙ্গে জল্পনা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বইছে গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের দুর্গ। সবথেকে বড় চমক তৈরি হয়েছে খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফল বলছে তিনি এখন আর বিধায়ক নন, আর গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। কিন্তু ফল ঘোষণার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখনও ইস্তফা দিলেন না, তা নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক ও সাংবিধানিক জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি দীর্ঘকালীন রীতি রয়েছে—নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ২০১১ সালের পরিবর্তনের নির্বাচনে ঠিক এই কাজটাই করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বামফ্রন্টের পরাজয় স্পষ্ট হতেই তিনি সশরীরে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গেরুয়া শিবিরের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনের বদলে ছুটেছিলেন শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রে। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি ‘ভোট লুঠ’ এবং ‘আসন চুরির’ গুরুতর অভিযোগ তোলেন। আজ বিকেল পর্যন্তও তিনি ইস্তফা না দেওয়ায় তৈরি হয়েছে আইনি ধোঁয়াশা।

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, মমতা কি পরাজয় মানতে পারছেন না? নাকি তিনি কোনো বড় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি—বিজেপি অন্তত ১০০টি আসনে অনৈতিকভাবে জয়লাভ করেছে। এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে আজ বিকেলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে তৃণমূলের পরবর্তী রণকৌশল এবং মমতার ইস্তফা পর্ব।

অন্যদিকে, নবান্ন ও রাজভবনের অন্দরেও শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। নিয়ম অনুযায়ী, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, রাজ্যপাল তাদেরই সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। কিন্তু তার আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করাটা আবশ্যিক। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে রাজভবন কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে রাজ্যপাল প্রশাসন। বাংলার রাজনীতিতে এমন সাংবিধানিক সংকট এর আগে কখনও দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত কি জনমতের কাছে মাথা ঝোঁকাবেন তৃণমূল নেত্রী, নাকি লড়াই গড়াবে আদালত পর্যন্ত? নজর এখন সেদিকেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy