‘পচে গলে গিয়েছে সিপিএম’! প্রতীকের প্রশংসা তৃণমূল মুখপাত্রের গলায়, তবে কি জার্সি বদল?

লোকসভা ভোটের মুখে বড়সড় ধাক্কা বাম শিবিরে। ডিওয়াইএফআই (DYFI) তথা সিপিএমের তরুণ তুর্কি প্রতীক-উর-রহমান দল ছাড়তেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। জল্পনা তুঙ্গে— তবে কি এবার জোড়াফুলে নাম লেখাতে চলেছেন প্রতীক? এই জল্পনা উস্কে দিয়েই এবার মুখ খুললেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

‘সিপিএমে নতুনদের দমবন্ধ হচ্ছে’ প্রতীক-উর-রহমানের দলত্যাগ নিয়ে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, “সিপিএম দলটা এখন পচে গিয়েছে, গলে গিয়েছে। ওখানে এখন আদর্শের চেয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তাঁর মতে, বামেদের অন্দরে এখন মহম্মদ সেলিম বনাম সুজন চক্রবর্তীর লড়াই চলছে। কুণাল আরও যোগ করেন, “প্রতীক-উরের মতো নিষ্ঠাবান ছেলেরা কিছু ‘বায়োলজিক্যাল ফেরেববাজের’ জন্য ওই দলে কাজ করতে পারছিল না। যারা প্রকৃত মার্কসবাদী, তাদের ওখানে এখন দমবন্ধ হচ্ছে।”

তৃণমূলে যোগ কি নিশ্চিত? প্রতীক তৃণমূলে আসছেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কুণাল ঘোষ রহস্য বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “যদির কথা নদীর পাড়ে। এখনই এই নিয়ে কিছু বলব না। ও একজন প্রতিষ্ঠিত নেতা, বাকিটা দল সিদ্ধান্ত নেবে।” তবে প্রতীকের সততার প্রশংসা করে কুণাল বলেন, “প্রতীক এমন একটা ছেলে, যাকে কেউ ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি দিলেও সে চড়ত না। ও সংগঠনের কাজ করত।”

কেন দল ছাড়লেন প্রতীক-উর? ভোটের ঠিক আগে রাজ্য কমিটিকে পাঠানো প্রতীকের পদত্যাগপত্র এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, “পার্টির বর্তমান ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না।” জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে মতাদর্শগত ও মানসিক দ্বন্দ্বের কারণেই তিনি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সিপিএমের অন্দরে ‘কাঠিবাজি’: কুণাল ঘোষের দাবি, সেলিম ঘনিষ্ঠরা দাপিয়ে বেড়ানোতেই নতুন প্রজন্মের নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সিপিএমের এই ‘আড়াআড়ি বিভাজন’ এবং ‘শ্রেণিজনিত সমস্যা’ প্রতীক-উরের মতো একনিষ্ঠ কর্মীদের দল ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

এখন দেখার, কুণাল ঘোষের এই ‘প্রশংসা’ কি প্রতীক-উরের তৃণমূলের পথে হাঁটার রাস্তা আরও প্রশস্ত করে দিল? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাজনৈতিক কারবারিরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy