ভারতীয় অর্থনীতির অন্দরে কি তবে ঘনিয়ে আসছে বড় কোনো বিপদ? পরিসংখ্যান বলছে, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির জেরে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের সামগ্রিক চাহিদার ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিলাসবহুল সামগ্রী— সবক্ষেত্রেই চাহিদার গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়াতে চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে অর্থনীতিবিদদের কপালে।
কেন এই আশঙ্কার মেঘ? সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী (এপ্রিল ২০২৬), ভারতের খুচরো মুদ্রাস্ফীতি এবং পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি— উভয়েরই হার উর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের সঞ্চয়ে টান ফেলছে। ফলে জীবনধারণের অপরিহার্য খরচ মেটাতে গিয়ে মানুষ অন্যান্য কেনাকাটা কমিয়ে দিচ্ছে।
গ্রামীণ বনাম শহর: মুদ্রাস্ফীতির আঁচ শহরের চেয়ে গ্রামগঞ্জে বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রামীণ ভারতের চাহিদায় ভাটা পড়লে তা পুরো দেশের জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যয় সংকোচন: সাধারণ ক্রেতারা এখন ব্র্যান্ডেড পণ্যের বদলে সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন, যা দেশের বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর বিক্রি কমিয়ে দিচ্ছে।
বিপদের সঙ্কেত কি আসন্ন? অর্থনীতিবিদদের মতে, চাহিদার এই পতন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে শিল্পোৎপাদন থমকে যেতে পারে। উৎপাদন কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। ফলে মুদ্রাস্ফীতির এই চক্রটি দেশের অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার সঙ্কেত দিচ্ছে।
আরবিআই-এর ভূমিকা: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সুদের হার বাড়ানোর মতো কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সুদের হার বাড়লে ঋণের বোঝা বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ ও চাহিদাকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
ভারতের বাজার কি পারবে এই মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে? সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।





