ভারতের শ্রম আইন বা ‘লেবার কোড’-এ এক ঐতিহাসিক বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। নতুন এই আইন কার্যকর হলে আপনার মাসকাবারি বেতনের স্লিপটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ‘নিউ ওয়েজ কোড’ কার্যকর হলে বেসরকারি এবং সরকারি— উভয় ক্ষেত্রের কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়তে চলেছে।
কী এই নতুন নিয়ম? নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মীর মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি (Basic Salary) হতে হবে তার মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ। বর্তমানে অনেক সংস্থাই বেসিক স্যালারি কমিয়ে অন্যান্য এলাওয়ান্স (ভাতা) বাড়িয়ে রাখে। নতুন আইন কার্যকর হলে কোম্পানিগুলিকে তাদের পে-রোল কাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন কারা? এই নিয়মে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে সেইসব কর্মচারীদের যাদের বেতন কাঠামোতে এখন বেসিক স্যালারি খুব কম। বিশেষ করে:
পিএফ (PF) সঞ্চয় বৃদ্ধি: যেহেতু পিএফ-এর টাকা বেসিক বেতনের ওপর নির্ভর করে কাটা হয়, তাই বেসিক বাড়লে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বেশি গ্র্যাচুইটি: অবসরের সময় প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটির পরিমাণও সরাসরি বেসিক স্যালারির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যারা দীর্ঘ মেয়াদে এক সংস্থায় কাজ করছেন, তারা শেষে মোটা অঙ্কের টাকা পাবেন।
অবসর পরবর্তী সুরক্ষা: হাত খরচের টাকা কিছুটা কমলেও, বার্ধক্যের সঞ্চয় বা রিটারায়মেন্ট ফান্ড হবে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইন-হ্যান্ড স্যালারি কি কমবে? হ্যাঁ, এটিই এই আইনের মুদ্রার উল্টো পিঠ। যেহেতু পিএফ বাবদ আপনার বেতন থেকে বেশি টাকা কাটা হবে, তাই প্রতি মাসে বাড়ি নিয়ে যাওয়া বেতনের পরিমাণ (Take-home salary) কিছুটা কমতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কাজের সময় ও ছুটির নিয়ম: নতুন আইনে কাজের দিন ৪ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হতে পারে। পাশাপাশি অর্জিত ছুটি (Earned Leave) সংক্রান্ত নিয়মেও বড়সড় শিথিলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের কয়েক কোটি শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা এর আনুষ্ঠানিক প্রয়োগের।





