পকেট কাটার নয়া ফাঁদ! Oppo-Realme-OnePlus নামে বাজারে দেদার বিকোচ্ছে নকল ফোন, ফাঁস দিল্লির ভয়ংকর চক্র

খাবার দাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভেজাল নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু এবার যে তথ্য সামনে এল, তা স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং প্রযুক্তি-প্রেমীদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আপনি যে নামী ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটটি ব্যবহার করছেন, তা আদেও আসল তো? এই প্রশ্নটিই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। কারণ, খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে হানা দিয়ে এক বিশাল নকল স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানার হদিস পেয়েছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশি অভিযানে চক্ষু চড়কগাছ
দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর আসছিল যে, দিল্লির বাজারে Oppo, OnePlus এবং Realme-র মতো নামী ব্র্যান্ডের নামে অত্যন্ত সস্তায় নকল স্মার্টফোন ও সেগুলির সরঞ্জাম বিক্রি করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল মধ্য ও পশ্চিম দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন করোল বাগ এবং মোতি নগর এলাকায় দুটি বড় গুদামের হদিস পায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে জালিয়াতির হাড়হিম করা সব তথ্য। দেখা যায়, হাজার হাজার নকল ফোনের বডি, ব্যাটারি, চার্জার এবং হেডফোন মজুত করে রাখা হয়েছে।

কিভাবে চলত এই জালিয়াতি?
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, মোতি নগরের ওই কারখানায় অত্যন্ত নিম্নমানের সস্তা যন্ত্রাংশ দিয়ে মোবাইল এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তৈরি করা হতো। এরপর সেইসব পণ্যের ওপর অবিকল আসল ব্র্যান্ডের মতো দেখতে Oppo, OnePlus কিংবা Realme-র লোগো এবং লেবেল সেঁটে দেওয়া হতো। সাধারণ ক্রেতাদের চোখে যাতে কোনও সন্দেহ না হয়, তার জন্য প্যাকেজিংও করা হতো হুবহু আসলের মতো। এরপর রাজধানীর বিখ্যাত গ্যাজেট মার্কেট করোল বাগ-সহ বিভিন্ন জায়গায় সেইসব নকল পণ্য আসল বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের হাতে এই বিপজ্জনক ইলেকট্রনিক সামগ্রী তুলে দেওয়া হতো।

বিপজ্জনক এই নকল পণ্য
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের নকল ফোন বা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিম্নমানের ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে এই ফোনগুলি যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এছাড়া এগুলি থেকে নির্গত বিকিরণ (Radiation) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ নকল সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে উৎসবের মরসুমের আগে এই পর্দাফাঁস সাধারণ মানুষকে বড়সড় আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy