নেপালে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! গদি টলমল প্রধানমন্ত্রী বালেনের? চাপের মুখে ইস্তফা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং

ক্ষমতায় আসার এক মাস কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন সংকটের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ওরফে ‘বালেন’-এর সরকার। একদিকে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভ, অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় দুর্নীতির অভিযোগে ভাঙন— সব মিলিয়ে উত্তাল হিমালয়ের দেশটি। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং (Sudan Gurung)

কেন পদ ছাড়লেন সুদান গুরুং? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে মুদ্রাপাচার কান্ডে অভিযুক্ত জনৈক ব্যবসায়ীর সংস্থায় তার শেয়ার থাকার তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয় বিরোধী দলগুলো। বিক্ষোভের মুখে পড়ে গুরুং ফেসবুকে লেখেন, “আমার কাছে পদের চেয়ে নীতি বড়।” এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী বালেনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিক্ষোভের মূলে কী? প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ-র বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বর্তমানে নেপালের রাজপথ উত্তপ্ত:

  • ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল: ভারত থেকে ১০০ নেপালি রুপির বেশি দামের পণ্য আনলে তার ওপর ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক চাপিয়েছে সরকার। এর ফলে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

  • ছাত্র রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা: রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে খেপেছে ছাত্রসমাজ। স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী কাঠমান্ডুর রাস্তায় বিক্ষোভে সামিল হয়েছে।

বালেন শাহ-র চ্যালেঞ্জ: ২০২৫ সালের যুব বিদ্রোহের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা বালেন শাহ-র জন্য এই পরিস্থিতি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy