বিহারের রাজনীতিতে গত দুই দশক ধরে যে নামটি অপরিহার্য ছিল, সেই মহীরুহের পতনের ঘণ্টা বেজে গেল। এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন নীতীশ কুমার। ২০ বছর ধরে বিহারের মসনদ আগলে রাখার পর এবার তাঁর গন্তব্য দিল্লির সংসদ ভবন।
কেন ইস্তফা দিচ্ছেন নীতীশ কুমার? নীতীশ কুমার সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ (Rajya Sabha MP) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একসঙ্গে সাংসদ এবং বিধানসভার সদস্য (মুখ্যমন্ত্রী) থাকতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁকে বিহারের সিংহাসন ত্যাগ করতে হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি একনজরে:
১০ এপ্রিল: দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নেবেন নীতীশ কুমার।
১৩ এপ্রিল: বিহার ক্যাবিনেটের শেষ বৈঠক। এখানেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
১৪ এপ্রিল: মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিতে পারেন নীতীশ।
১৫ এপ্রিল: নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা।
পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? সূত্রের খবর, নীতীশ কুমার নিজেই তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নীতীশ জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে দ্রুত নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে বিহারের কুর্সিতে এবার দেখা যাবে গেরুয়া শিবিরের এই দাপুটে নেতাকে।
বিজেপির চাল না কি নীতীশের কৌশল? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জোরাজুরিতেই নীতীশকে রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে বিহারে বিজেপির ক্ষমতা দখলের পথ আরও প্রশস্ত হবে। অন্যদিকে, নীতীশ ভক্তদের মতে, তিনি সম্মানজনকভাবেই দিল্লি যাচ্ছেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিহারে নীতীশ-বিহীন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।





