নির্বাচনের ২৫ দিন পার, মন্ত্রিসভা অধরা! তার মাঝেই পদ্ম শিবিরে চরম কোন্দল বোলপুরে

রাজ্যের মসনদে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। স্বাধীনতার পর প্রথমবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বয়স ২৫ দিন পেরোলেও, এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। আর এরই মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের খাসতালুক তথা কেষ্ট গড়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অবাক রাজনৈতিক মহল।

বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দলেরই যুব মোর্চার সভাপতি শম্ভুনাথ রায় সরাসরি আঙুল তুলেছেন দলেরই প্রার্থী দিলীপ ঘোষের দিকে। শম্ভুনাথের দাবি, বোলপুরে বিজেপির এই বিপর্যয়ের মূল কারণ তৃণমূলের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের গোপন ‘সেটিং’। শম্ভুনাথের বিস্ফোরক অভিযোগ, সোনাঝুরির যে বেআইনি পার্কিং বিজেপি বন্ধ করেছিল, সেই পার্কিংয়ের মালিক তৃণমূল নেতা নিমাই দাসের সঙ্গে ভোটের আগে এক গোপন হোটেলে বৈঠক করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রতিবার ভোটে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সেটিং করেই নাকি পরাজয় বরণ করেন দিলীপ।

এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত মূলত শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির খোয়াই হাট স্থানান্তর ও পার্কিং বিতর্কে। দলের যুব মোর্চা সোনাঝুরির পরিবেশ বাঁচাতে তৃণমূলের পার্কিং বন্ধের অভিযানে নামলে, দিলীপ ঘোষ তা নিয়ে ভিন্ন সুর তোলেন। দিলীপ ঘোষের পালটা দাবি, “সোনাঝুরির হাট স্থানান্তর তৃণমূলের আগের পরিকল্পনা ছিল। টাকা রোজগারের জন্য হাট বদল করার পরিকল্পনা দলের ছিল না। শম্ভু কেন এমন কথা বলছে তা জানি না।”

তবে শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেনি যুব মোর্চা। শম্ভুনাথ রায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক ‘স্ক্যাম’ বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলকোট বা কেতুগ্রামের মতো এলাকায় হিন্দু ভোট ব্যাংককে কাজে লাগিয়ে বিজেপি জয়ী হলেও, কেন বোলপুরে দিলীপ ঘোষ হেরে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুব মোর্চা সভাপতি। শম্ভুনাথ জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলকে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই হয়তো কেষ্ট গড়ে বিজেপি আজ পর্যন্ত একটি স্থায়ী দলীয় কার্যালয়ও গড়ে তুলতে পারেনি। রাজ্যের শাসক দল হলেও বোলপুরে গেরুয়া শিবিরের সংগঠন যে কার্যত নড়বড়ে এবং আভ্যন্তরীণ কোন্দলে জরাজীর্ণ, তা এই ঘটনায় ফের প্রমাণিত। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘তৃণমূল যোগসাজশ’-এর অভিযোগ এনে একদিকে যেমন দলের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন নেতারা, অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে পদ্ম শিবিরের দৈন্যদশা আরও প্রকট করে তুলেছেন। ভোটের ফল ঘোষণার ২৫ দিন পরেও মন্ত্রিসভা না হওয়ার সুযোগ নিয়ে যেভাবে এই কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে, তা বিজেপি হাই কমান্ডের কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy