নির্বাচনের ভরাডুবিতে তোলপাড় তৃণমূল! মাঝরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন বিবেক গুপ্ত

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে মসনদ দখল করেছে বিজেপি। শাসকদলের এই শোচনীয় পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলের অন্দরে শুরু হয়েছে পদত্যাগের পালা। বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক তথা দলের প্রভাবশালী হিন্দিভাষী নেতা বিবেক গুপ্ত।

সোমবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি। বিবেক গুপ্ত তৃণমূলের অন্দরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। তিনি দলের হিন্দিভাষী সেলের চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যের হিন্দি বলয়গুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ধুয়েমুছে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হিন্দিভাষী ভোটারদের মন জয়ে ব্যর্থ হওয়ার গ্লানি থেকেই তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবেক গুপ্ত তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের এই ফলাফলের জন্য আমি সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করছি। দলের একজন নেতা হিসেবে আমি নিজের ব্যর্থতা অকপটে মেনে নিচ্ছি।” তিনি আরও জানান যে, দলের সমস্ত পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন এবং আগামী দিনে শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে জোড়াসাঁকো কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেও এবার বিবেক গুপ্তকে টিকিট দেয়নি দল। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছিল বিজয় উপাধ্যায়কে। কিন্তু বিজেপির বিজয় ওঝার কাছে ৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি। পরাজয়ের পরেই বিবেক গুপ্ত জোড়াসাঁকোর মানুষের উদ্দেশে এক বার্তায় জানান, “মানুষ তাঁদের রায় দিয়েছেন। আগামী ৫ বছর বিজয় ওঝা এই এলাকার মানুষের সেবা করবেন।” একইসঙ্গে বিধায়ক থাকাকালীন তিনি যে সাধ্যমতো মানুষের পাশে ছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

রাজ্যের এই আমূল পরিবর্তনের আবহে আজ মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। হারের ময়নাতদন্তে তৃণমূল নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy