পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির সংঘাত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া আক্রমণের পাল্টা জবাব দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনের শাসন কার্যকর হবেই। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কমিশনের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী যে অভিযোগগুলি তুলেছিলেন, তার পয়েন্ট-বাই-পয়েন্ট জবাব দিয়েছে কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, তৃণমূলের বিধায়ক ও কর্মীরা প্রকাশ্যে নির্বাচন আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি এসডিও (SDO) ও বিডিও (BDO) অফিসে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। কমিশনের কড়া বার্তা—এসআইআর-এর কাজে যুক্ত কোনো কর্মীর ওপর চাপ সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পাশাপাশি উঠে এসেছে বিএলও-দের (BLO) প্রাপ্য ভাতার বিষয়টিও। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বিএলও-র জন্য নির্ধারিত ১৮,০০০ টাকার মধ্যে মাত্র ৭,০০০ টাকা মেটানো হয়েছে। অবিলম্বে বাকি টাকা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রিটার্নিং অফিসার (RO) নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। বর্তমানে মাত্র ৬৭টি কেন্দ্রে এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিকরা রয়েছেন, যা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আধিকারিকদের বদলি এবং এফআইআর প্রসঙ্গ। কমিশন অভিযোগ করেছে, রাজ্য সরকার তাদের না জানিয়েই ৩ জন ইলেক্টোরাল রোল অবজারভারকে বদলি করেছে। গত ২৭ জানুয়ারি এই বদলি বাতিলের অনুরোধ করা হলেও নবান্ন এখনো তাতে কর্ণপাত করেনি। এছাড়াও, তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪ জন আধিকারিক এবং ১ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করায় রাজ্য সরকারের ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন।