নিজের বাড়িতে স্বামী ও তার বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার মহিলা, হাত-পা বেঁধে তাপ্তি নদীতে ফেলে খুনের চেষ্টার অভিযোগ!

গুজরাটের সুরাতে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক মহিলাকে তাঁর স্বামী ও তার বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। গণধর্ষণের পর ওই মহিলাকে খুনের চেষ্টাও করা হয় এবং তাঁকে তাপ্তি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ওই মহিলা। এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী গণেশ রাজপুত। সম্প্রতি জেল থেকে মুক্তি পাওয়া গণেশই তার এক বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে এনে নিজের স্ত্রীর উপর এই পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে।

গত ২৪শে জুলাই গণেশের মনে সন্দেহ জাগে যে তার স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। এই সন্দেহের বশেই সে স্ত্রীর উপর চড়াও হয় এবং লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এরপরের দিন, অর্থাৎ ২৫শে জুলাই, গণেশ ২২ বছর বয়সী মহেশ ওরফে প্রিন্স কুমার নামের এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে অপহরণ করে।

অপহরণের পর গণেশ ও তার বন্ধু দীনদয়াল নগরের একটি ভাড়া বাড়িতে ওঠে। সেখানেই দু’জনে মিলে মহিলার উপর নির্মম অত্যাচার চালায় এবং তাঁকে এক এক করে ধর্ষণ করে। এমনকি মহিলার মাথায় পাইপ দিয়ে আঘাতও করা হয়। এখানেই থামেনি গণেশ। সে ২৯ বছর বয়সী বিজয় ওরফে কাচিয়ো ঈশ্বরভাই রাঠৌর এবং ৩৯ বছর বয়সী আপ্পা জগন্নাথ বাঘমারে নামের আরও দুই সহযোগীকে ওই ভাড়া বাড়িতে ডেকে আনে।

গুরুতর আহত ওই মহিলাকে চারজন মিলে একটি অটো রিকশায় তোলে। সেখান থেকে তারা তাপ্তি নদী সংলগ্ন একটি জলের ট্যাঙ্কের কাছে পৌঁছায়। সেখানে মহিলার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে তাঁকে তাপ্তি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, ওই মহিলা কোনও রকমে জলে ভেসে থাকতে সফল হন এবং নদী থেকে বেঁচে ফিরেই কাপোদারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গণধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে। একাধিক টিম গঠন করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত গণেশ পেশায় গাড়িচালক এবং আসলে তামিলনাড়ুর শৈলেমের বাসিন্দা। সুরাতে তার বিরুদ্ধে এর আগেও ২৬টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা রয়েছে।

অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে মহেশ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা, বিজয় গুজরাটেরই বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়ির টেকনিশিয়ান। আপ্পা মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের একজন অটো রিকশা চালক। বর্তমানে নির্যাতিতা মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনা সুরাতের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy