১৯৫৬ সালের অনৈতিক কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (ITPA) ব্যাখ্যায় এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য পতিতাবৃত্তি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা নয়, বরং পাচার, বাণিজ্যিক শোষণ এবং দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই আইন নারীদের নিপীড়নের জন্য নয়, বরং তাদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে।
২৯৮ পৃষ্ঠার এই রায়ে আদালত বলেছে, আইনের ৭ ও ৮ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জনসমাগমস্থলের কাছাকাছি পতিতাবৃত্তি শাস্তিযোগ্য, কারণ এটি সামাজিক শৃঙ্খলা ও শালীনতা রক্ষা করে। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা ছাড়াই যদি কোনো নারী নিজের জীবিকার জন্য যৌন পেশায় লিপ্ত হন, তবে সেই বাসস্থানকে কোনোভাবেই ‘পতিতালয়’ বলা যাবে না।
আদালত স্পষ্ট করেছে, কোনো নারী শুধুমাত্র নিজের উপার্জনের জন্য নিজ গৃহে এই পেশায় যুক্ত থাকলে তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আদালতের মতে, আইটিপিএ-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত শোষকদের দমন করা, ভুক্তভোগী নারীদের হয়রানি করা নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক শৃঙ্খলার এক ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এই আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করল। এই রায় যৌনকর্মীদের জীবন ও আইনি অধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





