বিধানসভা নির্বাচনের মুখে শহরজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম (SST)। মঙ্গলবার সাতসকালে কলকাতার দুই ব্যস্ততম এলাকা—শ্যামপুকুর ও নিউমার্কেটে হানা দিয়ে উদ্ধার হলো প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা নগদ। কোনো বৈধ নথি দেখাতে না পারায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সমস্ত অর্থ।
শ্যামবাজারে কালো ব্যাগ ভর্তি ১৭ লক্ষ!
মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের শ্যামবাজার এলাকায় একটি সন্দেহজনক গাড়ি আটকায় পুলিশ। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। গাড়ির ভেতরে থাকা ফজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কালো চামড়ার ব্যাগে থরে থরে সাজানো ছিল ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। গুণতি শেষে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে ১৬ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। নদিয়ার বাসিন্দা ফজলুর ও তাঁর সঙ্গী বিবেক ওঝা এই বিপুল টাকার কোনো সন্তোষজনক উৎস দেখাতে পারেননি।
নিউমার্কেটে ২০ লক্ষের ‘মালিক’ বিধাননগরের বাসিন্দা
অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ নিউমার্কেটের চাটাওয়ালা গলিতে একটি চারচাকা গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় আরও ২০ লক্ষ টাকা। গাড়ির মালিক বসন্ত কুমার সোনি দাবি করেন, তিনি ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সঠিক প্রমাণ না থাকায় আয়কর দপ্তরের ইন্সপেক্টর রাজীব রঞ্জনের উপস্থিতিতে পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
কমিশনের কড়া বার্তা
নির্বাচনের আগে ভোট প্রভাবিত করতে বা বেআইনি লেনদেনের জন্য এই টাকা ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। পুলিশ জানিয়েছে:
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নাকা চেকিং আরও বাড়ানো হয়েছে।
বড় অঙ্কের নগদ বহনের ক্ষেত্রে বৈধ নথি রাখা বাধ্যতামূলক।
উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের যোগ আছে কি না, তাও তদন্তাধীন।
ভোটের আগে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিলোত্তমার রাস্তায় এখন পুলিশের নজর এড়ানো যে দায়, তা এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করছে।





