বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকারের পতনের পর এবার প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হলো পরিবর্তনের ছোঁয়া। রাজ্যে গেরুয়া ঝড় উঠতেই পদত্যাগের মিছিলে যোগ দিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি রাজ্য সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
জোড়া পদ থেকে ইস্তফা: নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC) এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (WBSIDCL)— এই দুই সংস্থারই চেয়ারম্যান পদে ছিলেন অভিরূপ সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে ইমেল মারফত নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরপরই তাঁর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত: উল্লেখ্য, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবেই চেনা হতো। ২০১৩ সালে গঠিত চতুর্থ অর্থ কমিশনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দেওয়া রিপোর্ট রাজ্য সরকারের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি এক সময় দীনেশ ত্রিবেদী রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ার পর অভিরূপ সরকারকে সেই জায়গায় পাঠানোর নামও জোরালোভাবে উঠে এসেছিল।
প্রশাসনিক অন্দরে পালাবদলের হাওয়া: বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গতবারের বিজয়ী তৃণমূল এবার মাত্র ৮০টি আসনে থিতু হয়েছে। রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই নবান্নের অন্দরেও শুরু হয়ে গিয়েছে সাজ সাজ রব। একদিকে যখন সরকারি কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে গেরুয়া আবিরে মাতছেন, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ থেকে একের পর এক আধিকারিক ও মনোনীত ব্যক্তিদের সরে দাঁড়ানো আসলে এক নতুন প্রশাসনিক যুগের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
অভিরূপ সরকারের এই ইস্তফার পর আগামী দিনে শিক্ষা, অর্থনীতি বা উন্নয়নমূলক অন্যান্য পর্ষদগুলির শীর্ষপদে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ কী হয়, এখন সেটাই দেখার।





