পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। গেরুয়া ঝড়ে ঘাসফুল শিবির কার্যত সাফ হয়ে যাওয়ার পর এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? শুধু মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘিরেই জল্পনা নয়, একইসঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুও কি বদলে যেতে চলেছে? সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি হওয়া ‘নবান্ন’ নয়, বরং ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যের ধারক ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ বা মহাকরণ থেকেই এবার নতুন সরকার পরিচালনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের পরই নড়েচড়ে বসেছে পূর্ত দপ্তর (PWD)। জানা গিয়েছে, মহাকরণের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্তারা সেখানে পরিদর্শন শুরু করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাকরণের ঠিক কোন অংশ থেকে কাজ শুরু করা সম্ভব, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা কোথায় বসবেন—সেই নিয়ে একটি ব্লু-প্রিন্ট বা বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে PWD। নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার জায়গা এবং পুলিশের বন্দোবস্ত নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, দীর্ঘ বনবাস কাটিয়ে ফের প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে ফিরতে চলেছে লালবাড়ির ব্যস্ততা।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার কে, তা নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব। একদিকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জয়ী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করেছেন। অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দল এই লড়াই লড়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি এখানেও কোনো ‘অচেনা মুখ’ বা ডার্ক হর্সকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে চমক দিতে পারে।
এদিকে সরকার বদলের সন্ধিক্ষণে নবান্ন জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র স্নায়ুর চাপ। ফাইল লোপাট বা গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার আশঙ্কায় কড়া নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যসচিব। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তর থেকে কোনো ফাইল চুরি বা পোড়ানো যাবে না, এমনকি কোনো নথির কপিও করা চলবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নবান্ন-সহ সমস্ত সরকারি অফিসে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সরকারি কর্মীদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো কর্মী ফাইল নিয়ে বেরোচ্ছেন কি না, তা তল্লাশি করে দেখার পরেই তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এক কথায়, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়ে গেছে বড়সড় শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া।





