ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পবিত্রতার নগরী নবদ্বীপে এক ভয়াবহ অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নবদ্বীপ মহাশ্মশানের সমাধি থেকে নিয়মিত চুরি হচ্ছে মৃতদেহের কঙ্কাল! শুধু তাই নয়, পচন ধরার পর মৃতদেহের অবশিষ্ট অংশ গাছের সঙ্গে বেঁধে ছাল ছাড়িয়ে রাতের অন্ধকারে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নবদ্বীপ শ্মশানঘাট এলাকার ঠিক পেছনেই বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হয়। গত শুক্রবার রাতে কিছু মানুষ সেখানে সমাধি দিতে গিয়ে আঁতকে ওঠেন। তারা ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি গর্ত দেখতে পান। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে কিছু পচনশীল মৃতদেহের অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে সমাধি দিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি শ্মশান কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং মৃতদেহ চুরির অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে যে, দীর্ঘ দিন ধরেই নবদ্বীপ মহাশ্মশানের সমাধি থেকে মৃতদেহের কঙ্কাল চুরি হচ্ছে। শ্মশানের পাশেই বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী, যা এই চক্রের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এর পেছনে কি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে?
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে যে, নবদ্বীপের মহাশ্মশান পৌরসভা দ্বারা পরিচালিত। সুতরাং, এমন গুরুতর ঘটনা পৌরসভা জানবে না, তা হতে পারে না। তাদের মতে, এর পেছনে পৌরসভারও পরোক্ষ মদদ থাকতে পারে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, সমাধির মাটি গর্ত করা অবস্থায় পড়ে আছে এবং মানুষের পচন ধরা দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে পুলিশের তদন্তকারীরাও স্তম্ভিত হয়েছেন।
এই কঙ্কাল কেলেঙ্কারি নবদ্বীপের ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে গভীর আঘাত হেনেছে। প্রশাসন কি এই চক্রকে ধরতে পারবে? আর কেনই বা এমন ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এই পবিত্র ভূমিতে—এই প্রশ্নগুলোই এখন নবদ্বীপবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।