তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিলেন বিজেপির শীর্ষ দুই নেতা। যদিও এই জল্পনায় অবশেষে মুখ খুললেন স্বয়ং অভিষেক।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, “আমার কাছে খবর আছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রাম আসনে দাঁড়াবেন। সেই জন্যই পুলিশ অফিসারদের ওই জেলাতে ট্রান্সফার করা হচ্ছে। ওঁর উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খুব শখ। সেই উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্যই তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে লড়াই করবেন।”
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দল আমাকে নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে বললে দাঁড়িয়ে যাব, দার্জিলিংয়ে দাঁড়িয়ে যেতে বললে দাঁড়িয়ে যাব। তবে সুকান্ত মজুমদারকে বলব, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, দলের ওপর ছেড়ে দিতে। আমাকে দল যে কাজে লাগাবে, আমি সেই কাজ করব।” এর মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রার্থী হওয়ার জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে না দিলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের হাতেই রয়েছে বলে স্পষ্ট করে দেন।
আবাস-১০০ দিনের কাজে বিকল্প টাকার আশ্বাস
সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না। বিকল্প টাকার ব্যবস্থা আমরা করব (আবাস, ১০০ দিনের কাজ)। আমাদের সরকার ব্যবস্থা করে টাকা দিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমরা দিই। আমাদের সরকার কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া এটা করেছে। আমাদের ভরসা মানুষ।”
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিজেপি মানুষের সঙ্গে নেই। ওরা বাংলার মানুষকে টাইট দিতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দিতে গিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে চাইছে।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “SIR চলছে, কোনও বিজেপি নেতাকে দেখেছেন সাহায্য করতে? ওরা টিভির পর্দায় আছে, কমিশনে আছে। আমরা আছি মানুষের সঙ্গে।”
এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ১৪ বছরের কাজের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরবে। তাঁর সংযোজন, “আমরা জানাব, ১৪ বছরে আমরা কী করেছি। সেটা রিপোর্ট কার্ড আকারে দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মেট্রো বা রেলের কারখানা হত না।”