“ধর্মস্থলে গণ-কবর”- কংগ্রেসকে নিশানা করল বিজেপি, জেনেনিন পুরো মামলাটি কী?

কর্ণাটকের ধর্মস্থল মন্দিরে গণ-কবর দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় কংগ্রেস এবং বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করছে।

কী ঘটেছে ধর্মস্থলে?

ঘটনার সূত্রপাত হয় ৩ জুলাই, ২০২৫ তারিখে। ধর্মস্থল মন্দিরের একজন প্রাক্তন ঝাড়ুদার একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি মন্দিরের হয়ে কাজ করার সময় শত শত নারী ও নাবালিকা মেয়ের মৃতদেহ কবর দিয়েছেন। তার অভিযোগ, এই মৃতদেহগুলো ছিল এমন নারীদের, যাদের ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর কর্ণাটক পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে।

বিজেপির প্রতিবাদ ও মিছিলের ঘোষণা

 

এই অভিযোগের পর বিজেপি প্রতিবাদে নেমেছে। বিজেপি নেতা চালবাদী নারায়ণস্বামী বলেছেন, “ধর্মস্থল একটি পবিত্র স্থান। কিছু বামপন্থী গোষ্ঠী মিথ্যা কথা বলে মন্দিরের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।” তিনি বলেন, যারা ন্যায়বিচার চান, তাদের আদালতে যাওয়া উচিত, মন্দিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা উচিত নয়।

বিজেপি বিধায়ক এস. আর. বিশ্বনাথ জানিয়েছেন, এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর একটি বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে, যার নাম ‘ধর্মস্থল চলো’। এই মিছিলে ১ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে তারা আশা করছেন। বিজেপির মতে, এই মিছিলের উদ্দেশ্য কোনো রাজনীতি নয়, বরং মন্দিরের সম্মান রক্ষা করা।

কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ

অন্যদিকে, কংগ্রেস এই বিষয়টিকে রাজনীতির রঙ দিচ্ছে বলে বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। কর্ণাটকের মন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও বিজেপির এই মিছিলকে ‘ধর্মের নামে রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিজেপিকে এ ধরনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে মন্দিরের স্বার্থ রক্ষার জন্য এত বড় সমাবেশের প্রয়োজন নেই।

বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ব্রিজেশ চৌত্তা অবশ্য বলেছেন যে এই অপপ্রচারের কারণে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে। তিনি এসআইটি তদন্তকে স্বাগত জানিয়েও বলেছেন যে এখন সেই তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ধর্মস্থল গণ-কবরের ঘটনা এখন শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, বরং কর্ণাটকের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy