সোমবার বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনেই উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে ধনখড়ের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে সুস্বাস্থ্য কামনা করলেও, এই পদত্যাগের পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “শ্রী জগদীপ ধনখড়জি বিভিন্নভাবে দেশের সেবা করার অনেক সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতিও হয়েছেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।” এই বার্তাটি প্রথাগত হলেও, কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এবং এমন আকস্মিকভাবে পদত্যাগ, সেই প্রশ্নটি এখনও অনুত্তর। উপরাষ্ট্রপতির দফতর থেকেও কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি, যা রহস্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নৈনিতালের ঘটনা ও বিতর্কের সূত্রপাত:
গত ২৫শে জুন উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে একটি অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতির অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাই এই জল্পনার অন্যতম কারণ। কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ সংজ্ঞা হারান। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু, প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র সিং পাল। ধনখড় পুরনো বন্ধুর কাঁধে মাথা রেখেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকদের তৎপরতায় তিনি দ্রুত স্থিতিশীল হন।
এই অসুস্থতার ঘটনার সঙ্গে পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই এই পদত্যাগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তিনি কি স্বাস্থ্যের কারণেই সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন, নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করবেন – এ বিষয়েও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সত্ত্বেও, জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এখনও অন্ধকারে।





