গত সাত দিন ধরে ভারতীয় সোনা ও রুপো বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেলেও, অবশেষে স্বস্তির খবর। এক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া সোনার দাম আবার কিছুটা কমেছে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সোনার দাম কমেছে, যা বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
গত এক সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১১০ টাকা কমেছে। এর ফলে রাজধানী দিল্লিতে প্রতি ১০ গ্রামের দাম ১,০০,০৮০ টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০০ টাকা হ্রাস পেয়ে ৯১,৭৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ভারতের প্রধান শহরগুলিতে সোনার সর্বশেষ দাম:
দিল্লি:
২৪ ক্যারেট সোনা: ₹১,০০,০৮০ প্রতি ১০ গ্রাম
২২ ক্যারেট সোনা: ₹৯১,৭৫০ প্রতি ১০ গ্রাম
কলকাতা, চেন্নাই এবং মুম্বই:
২২ ক্যারেট সোনা: ₹৯১,৬০০ প্রতি ১০ গ্রাম
২৪ ক্যারেট সোনা: ₹৯৯,৯৩০ প্রতি ১০ গ্রাম
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সোনার চিত্র:
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এবং দেশীয় উভয় বাজারেই সোনার দাম কমেছে। গত সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং দিন সোমবার থেকে শেষ ট্রেডিং দিন শুক্রবার পর্যন্ত, এমসিএক্স-এ ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ১৫০০ টাকারও বেশি কমেছে। গত সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং দিন, অর্থাৎ সোমবার, ৫ই অগাস্ট মেয়াদ শেষ হওয়া ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ছিল ৯৯,৩২৮ টাকা, যা শুক্রবারের মধ্যে প্রতি ১০ গ্রামে ৯৭,৮০৬ টাকায় নেমে এসেছে। শুধুমাত্র ২৫শে জুলাই, এটি প্রতি ১০ গ্রামে ৯২০ টাকা কমেছিল। সপ্তাহের পাঁচটি ট্রেডিং দিনে এটি মোট ১৫২২ টাকা সস্তা হয়েছে।
রুপোর বাজার: স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবণতা:
রুপোর ক্ষেত্রে, গত সপ্তাহ জুড়ে ওঠানামা দেখার পর, অবশেষে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এর দাম এক সপ্তাহ আগের দামের সমান জায়গায় ফিরে এসেছে। ২৭শে জুলাই, রুপো প্রতি কেজি ১,১৬,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা: সোনা ও রুপোর নিরাপদ বিনিয়োগ:
গত ২০ বছরে (২০০৫-২০২৫) সোনার দামে এক বিশাল বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা প্রায় ১২০০ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে, ২০০৫ সালে যেখানে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ছিল ৭,৬৩৮ টাকা, তা বেড়ে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ ১,০০,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। এই ২০ বছরে, সোনা মোট ১৬ বার ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। বিশেষত, এই বছর সোনা ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এটিকে ২০২৫ সালের শীর্ষস্থানীয় পারফর্মিং সম্পদ শ্রেণির মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে।
রুপোর দামও এই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে এটি প্রতি কেজি ১ লক্ষ টাকার উপরে স্থিতিশীল রয়েছে। গত ২০ বছরে রুপোর দাম ৬৬৮.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সোনা ও রুপো সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়, যা অস্থির বাজার এবং ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে।
সোনা কেনার সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন:
সোনার গয়না কেনার সময় গুণগত মান যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলমার্ক দেখে গয়না কিনুন, কারণ এটি সোনার সরকারি গ্যারান্টি। উল্লেখ্য, ভারতে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) একমাত্র সংস্থা যারা হলমার্ক নির্ধারণ করে। প্রতিটি ক্যারেটের আলাদা হলমার্ক চিহ্ন থাকে, তাই আপনার সোনা কেনার আগে এটি ভালোভাবে দেখে এবং বুঝে নেওয়া উচিত।