দেশের অর্থনীতি থেকে বিশ্বমঞ্চ, সর্বত্রই মোদী-ম্যাজিক! ভারতের এই ১টি চাল কি সত্যিই বদলে দেবে দুনিয়ার সমীকরণ?

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বড় ও নীতিগত সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে খোদ দেশের আমজনতা থেকে শুরু করে তাবড় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন—ভারতে মোদীর এই বিশেষ ‘দাওয়াই’ কি শেষ পর্যন্ত সফল হবে? দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে এক নম্বর শক্তিতে পরিণত করতে মোদী সরকার যে দাওয়াই বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

অর্থনৈতিক মহলের মতে, বিগত কয়েক মাসে দেশের আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘স্বনির্ভর ভারত’ প্রকল্পকে যেভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে, তা ভারতের শিল্পক্ষেত্রে এক বড় জোয়ার এনেছে। সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ থেকে শুরু করে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম বড় হাব হয়ে ওঠার পথে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, করোনাকালীন ধাক্কা সামলে উঠে ভারতের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হারকে ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই কড়া দাওয়াই বা অর্থনৈতিক সংস্কারই প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

তবে কেবল দেশের ভেতরেই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের দাওয়াই এখন বিশ্বমঞ্চ কাঁপোচ্ছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইতালির মতো শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভারত আর কারো ওপর নির্ভরশীল নয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের এই নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী অবস্থান বিশ্বমঞ্চে মোদীর কূটনৈতিক দাওয়াইয়েরই এক বিশাল সাফল্য বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু এই মুদ্রার একটি উল্টো পিঠও রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বড় বড় প্রকল্পের চাকচিক্যের আড়ালে দেশের সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে যে টান পড়ছে, তা অস্বীকার করা যায় না। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে মোদীর দাওয়াই কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে এখনো সাধারণ মানুষের মনে সংশয় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই জটিল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মোদীর দাওয়াই একদিকে যেমন ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরের সমস্যা মেটাতে তা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। এই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ফল আগামী দিনে আমজনতার জীবনে কতটা স্বস্তি আনে, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই দাওয়াইয়ের আসল সাফল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy