দুনিয়া একদিকে, শান্তি অন্যদিকে! সমুদ্রের মাঝে এমন জীবন কি কল্পনা করতে পারেন?

নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর দিগন্তবিস্তৃত সবুজ পাহাড়— তার মাঝেই এক টুকরো জনপদ। তবে শহর বা গ্রাম নয়, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের এই স্টোরা ডিমুন (Stóra Dímun) দ্বীপে বাস করে মাত্র একটি পরিবার! ৬ জনের এই ছোট্ট সংসারটিই যেন গোটা দ্বীপের রাজা।

নেই রাস্তা, নেই হাসপাতাল!
মাত্র ২.৬৪ বর্গ কিলোমিটারের এই দ্বীপে আধুনিক জীবনের চেনা কোনো চিহ্ন নেই। নেই কোনো বাজার, নেই বড় রাস্তা, এমনকি বিপদে পড়ার মতো কোনো হাসপাতালও নেই। এখানে যাতায়াতের প্রধান বাহন কোনো গাড়ি বা নৌকা নয়, বরং হেলিকপ্টার! আটলান্টিক এয়ারওয়েজের হেলিকপ্টার সপ্তাহে কয়েকবার উড়াল দেয় এই দ্বীপে। খাবার থেকে শুরু করে চিঠি বা ওষুধ— সবকিছুই আসে আকাশপথে।

৮ প্রজন্ম ধরে প্রকৃতির কোলে
ইভা এবং জোগভান জন নামের এক দম্পতি এই দ্বীপের বাসিন্দা। মজার বিষয় হলো, তাদের পরিবার গত আট প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছে। তাদের প্রধান জীবিকা হলো ভেড়া পালন। শত শত ভেড়া যখন পাহাড়ে চরে বেড়ায়, তখন মনে হয় এ যেন রূপকথার কোনো রাজ্য।

স্কুলে যেতেও লাগে হেলিকপ্টার!
এই দ্বীপের বাচ্চাদের শৈশব কিন্তু সাধারণদের মতো নয়। দ্বীপে কোনো স্কুল না থাকায় পড়াশোনার জন্য তাদের পাড়ি দিতে হয় অন্য দ্বীপে। আর সেই যাতায়াতের মাধ্যমও হেলিকপ্টার! খেলার সাথী বলতে কেবল নিজেদের ভাইবোন। তবুও ইন্টারনেট আছে, যদিও তা ধীরগতির স্যাটেলাইট নির্ভর।

জীবন যেখানে কঠিন অথচ পরম শান্তির
বিদ্যুৎ: সৌরশক্তি আর জেনারেটরই ভরসা।

জল: বৃষ্টির জল জমিয়ে মিটানো হয় প্রয়োজনীয় চাহিদা।

খাওয়া-দাওয়া: দ্বীপের বাসিন্দাদের হাতে তৈরি সসেজ আর রুবাব জ্যাম এখন পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়।

শীতকালে যখন প্রবল ঝড় আর বৃষ্টি নামে, তখন দ্বীপটি বাকি পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবুও ইভা দম্পতির মতে, শহরের কোলাহল আর দূষণ থেকে দূরে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ সান্নিধ্যই তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy