নতুন বছরের শুরুতেই উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে উঠল রাজনৈতিক উত্তাপ। পহেলা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেও কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং ‘দিল্লির জমিদার’রা মিলে বাংলার ওপর নজিরবিহীন জুলুম চালাচ্ছে।
৩২ লক্ষ নাম উদ্ধারের দাবি: এদিন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করে ৩২ লক্ষ বাদ যাওয়া নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পেরেছি।” এনআরসি বা এসআইআর-এর আতঙ্কে যাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি পরিবারের চারজন ভোট দিতে পারবেন আর একজন পারবেন না—এমন বৈষম্য কেন?
‘দিল্লির জমিদার’ ও এজেন্সির জুলুম: বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লি থেকে এজেন্সির ভয় দেখিয়ে বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাঁর সাফ বার্তা, “দিল্লির জমিদারেরা অনেক অনধিকার প্রয়োগ করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন আপনারা। দয়া করে ভোট দিন।” ভোটকেই তিনি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে একমাত্র অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
মমতার মূল বার্তাসমূহ:
উন্নয়নের খতিয়ান: মমতা মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকার ১০৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে, যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকে।
সম্প্রীতির আহ্বান: বাংলাকে শান্তি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান উল্লেখ করে তিনি ‘নতুন ভোর’ নিয়ে আসার ডাক দেন।
বিচারের আশ্বাস: ট্রাইবুনাল চলছে জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে বাকি যাঁদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের অধিকারও ফিরিয়ে আনা হবে।
নববর্ষের সকালে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বদলা’ নেওয়ার ডাক এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি যে আগামী নির্বাচনে বড় ইস্যু হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





