দিল্লির জনকপুরীতে রাস্তার ধারের খোলা গর্তে পড়ে ২৫ বছরের যুবক কমল ধ্যানির মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এক চরম মানবিকতার অভাবের জ্বলন্ত উদাহরণ। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা তথ্য— কমল যখন মোটরসাইকেল নিয়ে জল বোর্ডের খুঁড়ে রাখা ১৫-২০ ফুট গভীর গর্তে পড়েছিলেন, তখন অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি সেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কেউই তাঁকে উদ্ধারে হাত বাড়াননি বা পুলিশকে খবর দেননি। ফলে প্রায় ৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ওই গর্তের ভেতরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ওই বেসরকারি ব্যাংক কর্মী।
ঘটনার ক্রমপঞ্জি ও চরম গাফিলতি:
বৃহস্পতিবার রাত ১২টা: বন্ধুকে ফোন করে কয়েক মিনিটের মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা বলেন কমল। এর কিছুক্ষণ পরেই অন্ধকারে কোনো সতর্কবার্তা বা রিফ্লেক্টর না থাকায় গভীর গর্তে পড়ে যান তিনি।
প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী: বিপিন সিং নামে এক ব্যক্তি প্রথম বাইকটিকে পড়তে দেখে কাছেই থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে জানান।
শ্রমিক ও ঠিকাদারের ভূমিকা: ওই নিরাপত্তারক্ষী যোগেশ নামে এক শ্রমিককে খবর দেন। যোগেশ গর্তের ধারে গিয়ে দেখেন বাইকের হেডলাইট তখনও জ্বলছে এবং ভেতরে কমল পড়ে রয়েছেন। যোগেশ খবর দেন সাব-কন্ট্যাক্টর রাজেশ প্রজাপতিকে।
অমানবিক সিদ্ধান্ত: রাজেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সব দেখলেও পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকেননি। উল্টে মূল ঠিকাদার হিমাংশু গুপ্তর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে দুর্ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। শ্রমিক যোগেশও পালিয়ে যায়।
পরের দিন সকাল ৮টা: পুলিশ ও পরিবার দুর্ঘটনার খবর পায়। ততক্ষণে সব শেষ।
এই ঘটনায় রাজেশ প্রজাপতিকে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাস্থলে কোনো আলোর ব্যবস্থা বা ব্যারিকেড না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যে যুবককে আধঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল, ৫ জনের জানা সত্ত্বেও শুধুমাত্র উদাসীনতার কারণে তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো— এই তথ্য এখন দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।





