শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা করোলবাগের এক জনপ্রিয় পোশাক বিপণির আউটলেটে (কাপড়ের দোকান) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে পুরো শোরুমটি ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। মৃত ব্যক্তির নাম কুমার ধীরেন্দ্র প্রতাপ সিং। অগ্নিদগ্ধ শোরুমের লিফটের ভিতর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আগুন নেভাতে দমকলের মোট ১৩টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্কের পরিবেশ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগুন প্রথমে ওই শোরুমের প্রথম তলায় লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ওপরের তলাগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ, বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ জামাকাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকায় আগুন আরও দ্রুততার সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে এই ঘটনায় কোনও হতাহত নেই, কিন্তু পরে তল্লাশি চালানোর সময় শোরুমের লিফটের ভেতর থেকে কুমার ধীরেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। অনুমান করা হচ্ছে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও তদন্ত:
কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দিল্লি পুলিশ এবং দমকল বাহিনী যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে, ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখছে এবং কোথাও ‘পকেট ফায়ার’ বা ছোট স্ফূলিঙ্গ লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা আগুন আবার জ্বলে ওঠার কারণ হতে পারে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশেপাশের সমস্ত দোকানপাট আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনা করোলবাগের ব্যবসায়িক মহলে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় নিজেদের ক্ষতির পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।