রাজধানীর বুকে এক বাঙালি অধ্যাপিকার খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশি তদন্তের পর অবশেষে এরাজ্যের বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারির পর ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
ঘটনার পটভূমি: দিল্লির একটি অভিজাত এলাকায় বসবাস করতেন ওই অধ্যাপিকা। নিভৃত জীবনযাপন করলেও, তাঁর ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন এরাজ্যেরই এক দম্পতি। ঘটনার দিন অধ্যাপিকার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে।
ঘটনার দিন কী হয়েছিল? তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া দম্পতির সঙ্গে অধ্যাপিকার কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভাড়া সংক্রান্ত কোনো বকেয়া বা ফ্ল্যাটের কোনো নিয়ম নিয়ে ওইদিন অধ্যাপিকার সঙ্গে দম্পতির বিবাদ বাঁধে। অভিযোগ, তর্ক চলাকালীনই দম্পতি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং অধ্যাপিকাকে শারীরিক আক্রমণ করেন।
পুলিশের দাবি, আক্রমণটি এতই গুরুতর ছিল যে অধ্যাপিকা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এরপর খুনের প্রমাণ লোপাট করতে দম্পতি ফ্ল্যাটের বিভিন্ন আসবাবপত্র এলোমেলো করে চুরির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই পুলিশ শেষ পর্যন্ত ওই দম্পতিকে চিহ্নিত করে এবং তাঁদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ কী জানাচ্ছে? তদন্তকারী দল জানিয়েছে, ধৃত দম্পতি ঘটনার পর থেকেই বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্ছিলেন। তবে দফায় দফায় জেরা করার পর তাঁরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। এরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত এই দম্পতি কেন এবং কী পরিস্থিতির চাপে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।
অধ্যাপিকার পরিবার শোকে স্তব্ধ। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও দিল্লির নিরাপত্তা এবং ভাড়াটিয়া যাচাইয়ের (Tenant Verification) প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত জারি রয়েছে এবং খুব দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।





