২৫ জুন, ২০২৫ – দিল্লিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর গ্রামের ছয় বাসিন্দা। অভিযোগ উঠেছে যে, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ছয়জনের প্রতিবেশীরা। আগামী শনিবার এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
যাঁরা মামলা দায়ের করেছেন, তাঁদের একজন আমির খান জানান, দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং কোনওরকম যাচাই ছাড়াই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আমির খানের দাবি, ওই ছয়জন বংশপরম্পরায় বীরভূমের বাসিন্দা এবং তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের মতো বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্রও ছিল। “তাঁরা বাংলাদেশি নন। দীর্ঘকাল ধরে তাঁরা বীরভূমের পাইকর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অথচ তাঁদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে,” বলেন আমির খান। তিনি অবিলম্বে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
মামলাকারীদের সূত্রে জানা গেছে, যে ছয়জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তাঁরা দুটি পরিবারের সদস্য। তাঁদের নাম সোনালি খাতুন, দানিশ শেখ, সাবির শেখ, সিউটি বিবি, কুরবান শেখ এবং ইমাম দেওয়ান। এঁরা সকলেই দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করতেন।
আরেক মামলাকারী সোয়েব আলি জানান, গত ২৫ জুন দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে। আটকের সময় তাঁরা দিল্লি পুলিশকে তাঁদের সমস্ত পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সোয়েব আলির অভিযোগ, তিন-চার দিন আগে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তবে বাংলাদেশের ঠিক কোন স্থানে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে মামলা দায়ের করেন। বুধবার তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আবেদন জানান। হাইকোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং আগামী শনিবার শুনানির দিন ধার্য করে। এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন উঠছে, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।





