দিল্লি-নয়ডাবাসীর পোয়াবারো! ৩ গুণ বড় হচ্ছে হিন্দন এয়ারপোর্ট, এবার আপনার শহর থেকেও মিলবে সরাসরি ফ্লাইট

দিল্লি সংলগ্ন গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানবন্দরের ভোলবদল এখন সময়ের অপেক্ষা। ক্রমবর্ধমান যাত্রীর চাপ সামলাতে এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশকে একটি প্রধান বিমান কেন্দ্রে পরিণত করতে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জট কেটেছে, যার ফলে বিমানবন্দরের আয়তন বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেতে চলেছে।

হিন্দন বিমানবন্দর প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মেগা প্রকল্পের জন্য মোট ১৪ একর অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে ৬.৮ একর জমি কেনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন কৃষকদের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে। বাকি ৭.২ একর জমি নিয়েও আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের আয়তন প্রায় ৭.৫ একর। নতুন জমি যুক্ত হওয়ার পর এটি ২১.৫ একর ছাড়িয়ে যাবে, যা পরিকাঠামো উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান যাত্রী সংখ্যার কথা মাথায় রেখে পার্কিং এরিয়া, এপ্রন এবং চেক-ইন কাউন্টার বহুগুণ বাড়ানো হবে। বর্তমানে এখান থেকে বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, বারাণসী, অযোধ্যা এবং লখনউয়ের মতো সীমিত কয়েকটি শহরে ফ্লাইট চলাচল করে। সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে দেশজুড়ে আরও অনেক নতুন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে গাজিয়াবাদ, মিরাট, বাগপত, হাপুর এবং বুলন্দশহরের বাসিন্দাদের আর দিল্লি (IGI) বা জেওয়ার বিমানবন্দরের উপর নির্ভর করতে হবে না। আনন্দ বিহার ও গাজিয়াবাদ রেলস্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় এটি ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী হবে।

জমি ক্রয় প্রক্রিয়ায় গতি আসায় খুশির হাওয়া এলাকায়। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, রাস্তার ধারের জমির দাম প্রতি বর্গমিটারে ২৪,০০০ টাকা এবং ভেতরের জমির দাম ২২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আনুমানিক ৬৩ কোটি টাকা খরচ হবে এই জমি কিনতে, যা রাজ্য সরকার বহন করবে। গাজিয়াবাদের সাংসদ অতুল গার্গ বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। আগস্ট ২০২৫-এ গঠিত কমিটির সক্রিয় ভূমিকায় এখন এই কাজ দ্রুত সমাপ্তির পথে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে হিন্দন বিমানবন্দর কেবল দিল্লি বিমানবন্দরের চাপ কমাবে না, বরং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রেও এক বড় বদল আনবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy