সময় বদলালেও পাহাড়ের সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘খেলনা গাড়ি’র আকর্ষণ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। বিগত ১৪২ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যাত্রী সংখ্যা এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল টয়ট্রেন।
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান
ডিএইচআর (DHR) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টয়ট্রেনের জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। একনজরে দেখে নিন সাফল্যের খতিয়ান:
যাত্রী সংখ্যা: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যাত্রী ছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩ জন, যা ২০২৫-২৬-এ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৩২ জন (বৃদ্ধি ১৭.৭২%)।
বার্ষিক আয়: গত বছরের ২২ কোটি ১২ লক্ষ টাকা আয় বেড়ে এবার হয়েছে ২৫ কোটি ৩৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৩০ টাকা (বৃদ্ধি ১৪.৭১%)।
ভর্তুকি ছেড়ে ‘স্বনির্ভর’ হওয়ার লড়াই
করোনা পরবর্তী সময়ে রেল বোর্ড নির্দেশ দিয়েছিল, হেরিটেজ শিরোপাধারী এই টয়ট্রেনকে এবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর নেতৃত্বে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাচীন স্টিম ইঞ্জিন পুনরুজ্জীবিত করা এবং আধুনিক পরিষেবার মেলবন্ধনই এই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে।
সামনে আরও চমক: আসছে নতুন জয়রাইড
সাফল্যে থেমে না থেকে পর্যটকদের জন্য আরও সুখবর শুনিয়েছেন অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী। তিনি জানান:
গরমের ছুটির ভিড় সামলাতে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত ৪টি নতুন জয়রাইড চালু হচ্ছে।
এনজেপি (NJP) থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় বিশেষ হেরিটেজ পরিষেবা শুরু হতে চলেছে।
পর্যটকদের নস্টালজিয়া উসকে দিতে ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিনগুলোকেও বেশি করে ট্র্যাকে নামানো হবে।
এডিটরস ইনসাইট: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে টয়ট্রেনের এই আর্থিক স্বনির্ভরতা কেবল রেলের জন্য নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের জন্য এক বিশাল অক্সিজেন। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কুউউ ঝিকঝিক শব্দের জাদু যে আজও অমলিন, এই রেকর্ডই তার সবথেকে বড় প্রমাণ।





