উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলায় এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী। পারিবারিক কলহ ও চরম আর্থিক সঙ্কটের জেরে এক পাষণ্ড পিতার বিরুদ্ধে নিজের তিন সন্তানকে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর মুখ থেকে কোনোমতে ফিরে এসেছে বড় মেয়ে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোরখপুরের বারওয়ার গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা সত্যম কুমার ১২ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন ইন্দিরা নগরের সঞ্জু দেবীকে। সঞ্জু দেবী সংসার চালানোর জন্য শহরের একটি সুপারমার্কেটে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন স্ত্রী কর্মস্থলে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগেই সত্যম কুমার তার তিন সন্তান—প্রজ্ঞা (১১), প্রাচী (৮) এবং অক্ষত (৫)-কে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন।
অভিযোগ, রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরে সত্যম দইয়ের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে তা সন্তানদের খেতে দেয়। বড় মেয়ে প্রজ্ঞা দই খেতে অস্বীকার করলেও, ছোট দুই ভাই-বোন প্রাচী ও অক্ষত তা খেয়ে ফেলে। বিষক্রিয়ার জেরে মুহূর্তের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সন্তানদের ছটফট করতে দেখে অভিযুক্ত সত্যম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের বড় মেয়ে প্রজ্ঞা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেয়। সে তড়িঘড়ি তার দাদু ও মাসিকে ফোন করে ঘটনার কথা জানায়। খবর পেয়ে আত্মীয়রা ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে তাদের মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আট বছরের প্রাচী ও পাঁচ বছরের অক্ষত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
গীদা থানার পুলিশ ইতিমধ্যে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সত্যম পেশায় অটোরিকশা চালক ছিল। অটোরিকশার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে সে প্রবল আর্থিক চাপে ছিল। নিহত শিশুদের দাদির অভিযোগ, আর্থিক সহায়তার জন্য সে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, কিন্তু চাহিদা পূরণ না হওয়ায় সে চরম পথ বেছে নিয়েছে।
গীদা সার্কেল অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শিশুদের দাদুর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত বাবাকে হেফাজতে নিয়েছে। কেন একজন পিতা নিজের রক্তকে এভাবে শেষ করে দিল, তা নিয়ে রহস্যের জট খুলতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।





