দক্ষিণী রাজনীতির দীর্ঘ কয়েক দশকের চেনা সমীকরণ কি এবার চিরতরে বদলে যেতে চলেছে? ডিএমকে (DMK) বনাম এআইএডিএমকে-র (AIADMK) দ্বৈরথে কি তৃতীয় শক্তি হিসেবে মহাপ্রলয় ঘটাতে চলেছেন সুপারস্টার বিজয়? সোমবার, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে তামিলনাড়ুর। তবে ফলপ্রকাশের ঠিক আগে তামিল রাজনীতির অন্দরমহলে এখন একটাই নাম— থালাপাথি বিজয় এবং তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK)।
এক্সিট পোলের মহাবিস্ফোরণ একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল (Exit Poll) ইতিমধ্যেই দাবি করেছে যে, বিজয়ের দল কেবল নির্বাচনে লড়ছে না, বরং তামিলনাড়ুর চাবিকাঠি এখন তাঁর পকেটেই। কোনো কোনো সমীক্ষা বলছে, বিজয় একাই ৯৮ থেকে ১২০টি আসন জিতে রাজ্যে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। যদি এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়, তবে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে— উভয় শিবিরেই বড়সড় ভাঙন অনিবার্য।
কাকে সমর্থন করবেন বিজয়? এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বিজয় কার দিকে ঝুঁকবেন? যদিও থালাপাথি তাঁর প্রচারে বারবার দুই দ্রাবিড় শক্তিকেই তীব্র আক্রমণ করেছেন, কিন্তু রাজনীতির ময়দানে চিরস্থায়ী শত্রু বলে কিছু হয় না। জল্পনা তুঙ্গে যে, সরকার গড়তে গিয়ে বিজয় কি ডিএমকে-র জোটের পথে বাধা হবেন, নাকি এআইএডিএমকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবেন?
তুরুপের তাস যুব সমাজ পরিসংখ্যান বলছে, তামিলনাড়ুর ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের প্রায় ৬৮ শতাংশই বিজয়ের ভক্ত এবং তাঁর দলের সমর্থক। দীর্ঘদিনের একঘেয়ে রাজনীতির বাইরে এই নতুন প্রজন্মের কাছে ‘বিকল্প’ হিসেবে উঠে এসেছেন বিজয়। চেন্নাইয়ের অলিগলি থেকে শুরু করে কোয়েম্বাটোর— সর্বত্রই ‘বিজয় ম্যাজিক’ কাজ করলে গতবারের মতো দাপট ধরে রাখা ডিএমকে-র পক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আগামীকাল সকালে যখন ভোট গণনা শুরু হবে, তখন কেবল তামিলনাড়ু নয়, গোটা দেশের নজর থাকবে বিজয়ের পারফরম্যান্সের ওপর। রূপোলি পর্দা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবের রাজনীতিতে কি তিনি ‘ব্লকবাস্টার’ হিট হতে পারবেন? নাকি কেবল ‘স্পয়লার’ হিসেবেই থেকে যাবেন? উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই।





