তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কলেজ চত্বর থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই ত্রাণসামগ্রীগুলি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। হঠাৎ করে এইভাবে কলেজের ভেতর থেকে সরকারি ত্রাণের পাহাড় উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে কলেজ চত্বরে অভিযান চালায় তারকেশ্বর থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য, শুকনো খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে কলেজ ক্যাম্পাসে মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি প্রকল্পের এই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে এক জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে নষ্ট হওয়ার পথে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারকেশ্বরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক সন্তু পান। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়কে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অমানবিক ঘটনা। যখন সাধারণ মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করে, তখন প্রাক্তন বিধায়কের জমানায় আসা এই ত্রাণসামগ্রী কলেজের ভেতরে ফেলে রেখে নষ্ট করা হয়েছে। মানুষের প্রাপ্য জিনিসের ওপর এই অধিকার তাঁর কে দিয়েছে?” বিধায়ক সন্তু পান আরও দাবি করেন যে, এর পেছনে কোনো গভীর দুর্নীতি বা স্বজনপোষণের যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি পুরো ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ত্রাণের এই সামগ্রী যদি সময়মতো বিলি করা হতো, তবে বহু অসহায় পরিবার উপকৃত হতো। কলেজের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ‘ত্রাণের গুদাম’ গড়ে তোলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এগুলো বিতরণের কোনো নথি বা রেজিস্টার রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে। বর্তমানে কলেজ এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত দোষী কে এবং কেন এই ত্রাণ সাধারণের কাছে পৌঁছায়নি, তার উত্তর পেতে এখন তদন্তের দিকে তাকিয়ে তারকেশ্বরবাসী।





