মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। চতুর্থ দিনে পা দিল ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। মঙ্গলবার রাত থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আরব দেশগুলোতে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কার্যত ‘পাখির চোখ’ করেছে তেহরান।
দুবাইয়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে বড়সড় হামলা চালায় ইরান। জানা গিয়েছে, মার্কিন সেনারা যে বহুতলে থাকতেন, সেখানে কমপক্ষে ১৩৬টি ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সৌদি ও কাতারেও ইরানের নিশানা দুবাইয়ের হামলার ঠিক আগেই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। হামলায় দূতাবাস চত্বরে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। যদিও সেই সময় ভবনটি খালি থাকায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। অন্যদিকে, কাতারের দিকেও ধেয়ে গিয়েছে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের ঝাঁক। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা ৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২৪টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: “গুঁড়িয়ে দেব মিসাইল ইন্ডাস্ট্রি” পাল্টা দিতে ছাড়ছে না ওয়াশিংটনও। সোমবার গভীর রাতে আমেরিকার শক্তিশালী বি-১ বোমারু বিমান ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে বোমাবর্ষণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা ইরানের সমস্ত মিসাইল ধ্বংস করব এবং ওদের মিসাইল ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেব।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বন্ধ হরমুজ প্রণালী যুদ্ধের সবথেকে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্ব বাজারে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করেছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে, কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। অপরিশোধিত তেল পরিবহনের এই প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতসহ গোটা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।