শাসকদলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে চরম বিভাজন। এবার নিজের দলের বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মহম্মদ মতিউর রহমান। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তিনি দাবি করলেন, তৃণমূলের প্রতি তিন জন বিধায়কের মধ্যে দু’জনই দুর্নীতিতে লিপ্ত। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
কী বললেন মতিউর রহমান? লাইভ ভিডিওতে মতিউর রহমান সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দলের নেতাদের একাংশের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে এলাকায় ব্যাপক লুটপাট ও শোষণ চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন নেতারা। এখন তদন্তের ভয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন।’’
বিধায়কের দাবি, তৃণমূলের অন্দরেই একটি ‘নতুন তৃণমূল’ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক নিয়ে একটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, মালদা জেলার ছয়জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে চারজনই এই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে রয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
দলের অন্দরেই অস্বস্তি ও প্রতিক্রিয়া মতিউর রহমানের এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ইতিমধ্যেই মতিউরের এই বক্তব্যের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও মতিউর নিজে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাছে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছেন।
বিজেপির কটাক্ষ এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘তৃণমূল যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা খোদ বিধায়কের কথাতেই স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে এই দলের পতাকা টাঙানোর মতো লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’’
রাজনৈতিক সমীকরণ রাজ্যে একের পর এক বিধায়কের ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রকাশের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। একদিকে কৃষ্ণার পদত্যাগ, অন্যদিকে বিধায়কদের দলবদলের জল্পনা— সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন এক অস্থির সময় চলছে।





