রবিবার যেন তৃণমূলের জন্য এক ‘ব্ল্যাক সানডে’। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ এবং তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় অস্বস্তিতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিজেল কাণ্ড থেকে পূর্ব বর্ধমানের ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ—সব মিলিয়ে শাসকদলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।
ফ্রেজারগঞ্জে ডিজেলের ভাণ্ডার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা নজরুল মোল্লার বাড়িতে মিলল ৪৮ ব্যারেল বেআইনি ডিজেল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ এসে ডিজেলগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত নজরুল পলাতক থাকলেও, তার দাদা আনারুল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই জায়গা থেকে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি প্রসেনজিৎ জানাকে আটকের সময় স্থানীয় মানুষ তাঁকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয়, যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের।
ত্রাণ চুরিতেও অভিযুক্ত তৃণমূল সাগরেও সরকারি ত্রাণ চুরির অভিযোগে তোলপাড়। পুলিশ সূত্রে খবর, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বুদ্ধদেব গাওনিয়াসহ মোট ৪ জন নেতা-কর্মীর বাড়ি ও গোডাউন থেকে প্রচুর পরিমাণ সরকারি ত্রাণ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকেও আজ কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।
কাটোয়ায় টাকা আত্মসাতের খেসারত অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, গ্রামবাসীর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে এই টাকা লুট করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে মারধরের শিকার হতে হয়েছে ধৃত নেতাদের অনুগামীদের।
রাজনৈতিক অস্বস্তি ভোট-পরবর্তী সময়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার রেশ না কাটতেই, একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় চরম চাপে তৃণমূল। স্থানীয় স্তরে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের এই সরাসরি ক্ষোভ ও মারধরের ঘটনা যে আগামী দিনে দলের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে, তা কার্যত স্পষ্ট।





