বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজতেই সরগরম হয়ে উঠেছে হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্র। এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে একদিকে লড়ছেন সিপিআইএম-এর ‘ক্যাপ্টেন’ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, অন্যদিকে তৃণমূলের বাজি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য। এই আবহে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার তথা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সৌমিক দে-র বাড়িতে মীনাক্ষীর আকস্মিক সফর ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।
সৌজন্য না কি দলবদলের ইঙ্গিত? পাঁচ বছর আগে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেও সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি সৌমিককে। বুধবার তাঁর বাড়িতে মীনাক্ষী হাজির হতেই প্রশ্ন ওঠে— তবে কি এবার বাম শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন লাল-হলুদ প্রাক্তনী? এ প্রসঙ্গে সৌমিক দে জানান, “এটি একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ। উনি এলাকায় প্রচারে এসেছিলেন, তাই বাড়িতে ডেকে চা খাইয়েছি। এর মধ্যে রাজনীতি খুঁজবেন না।”
কী বলছেন মীনাক্ষী ও সৌমিক? সৌমিকের দাবি, মীনাক্ষী তাঁকে সামনাসামনি আগে দেখেননি, তাই আলাপ করতে এসেছিলেন। তবে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ফুটবলারের সাফ কথা, “আমি সরাসরি রাজনীতি করি না, তবে আমার সমর্থন যে দলের প্রতি ছিল (তৃণমূল), সেখানেই রয়েছে।” অন্যদিকে, মীনাক্ষীও জনসংযোগের অঙ্গ হিসেবেই এই সাক্ষাৎকে দেখছেন।
উত্তরপাড়ার লড়াইয়ের সমীকরণ:
এই কেন্দ্রটি এখন রাজনৈতিক মহলে ‘হট সিট’ হিসেবে পরিচিত। কেন জানেন?
-
সিপিআইএম: মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে সামনে রেখে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া বামেরা।
-
তৃণমূল: বিদায়ী বিধায়ক পুলক রায়ের জয়ের ধারা বজায় রাখতে এবার প্রার্থী করা হয়েছে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
-
বিজেপি: প্রাক্তন এনএসজি কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তীকে দিয়ে চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
পরিসংখ্যান কী বলছে? ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই আসনে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনেও প্রায় ২৮ হাজার ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। তবে এবার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের ‘ডোর-টু-ডোর’ ক্যাম্পেইন এবং সৌমিক দে-র মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শাসক শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই দেখার।